শঙ্কর মণ্ডল ● হোগলবেড়িয়া

বাপরে বাপ নয়, একেবারে বাপরে সাপ!

বাবুরাম তো বহু দূর, আশপাশে কোনও সাপুড়েই নেই। তবে দিলীপ মণ্ডলও হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। তাঁরই উপস্থিত বুদ্ধিতে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল নতুন চামনা, রক্ষা পেল একটি চন্দ্রবোরা। শেষতক করিমপুরের নেচার কেয়ার সোসাইটির সভাপতি তথা সর্প বিশেষজ্ঞ গোলোক বিশ্বাস এসে সাপটিকে উদ্ধার করেন। করিমপুর ১ বিডিও অনুপম চক্রবর্তী বলেন, “সাপটিকে বন দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”

নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানার সীমান্তবর্তী গ্রাম নতুন চামনা। মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই গ্রামে চন্দ্রবোরা সাপ নিয়ে শুরু হয় হইহই কাণ্ড। এ দিন সকালে কলাইয়ের খেতে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন নতুন চামনার বাসিন্দা দিলীপ। এমনিতেই তিনি বেশ ডাকাবুকো। কিন্তু খেতে নেমে আচমকা সাপের উপর পা পড়তেই তিনি ভয় পেয়ে চকিতে একটা লাফ দেন। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে তিনি দেখেন, সাপটি চন্দ্রবোরা। আর ওই প্রজাতির চন্দ্রবোরা তাঁদের তল্লাটে তেমন দেখা যায় না। দিলীপ বলছেন, “সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করলাম, সাপটিকে ধরব। তার পরে প্রশাসনের লোকজনকে খবর দেব। শুনেছি, এ সাপের খুব বিষ। হয় সাপটি কারও ক্ষতি করবে নইলে উল্টে সাপটিকেই কেউ মেরে ফেলবে। তার পরেই সাপটিকে ধরে ফেলি।”

কিন্তু সাপ ধরা কি মুখের কথা! এ দিকে, দিলীপ যে ঘাস কাটা শিকেয় তুলে সাপ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, সেই বার্তাও রটে যায় গ্রামে। একজন, দুজন করতে করতে খেত ও খেতের পাশের রাস্তা রীতিমতো মেলার চেহারা নেয়। দিলীপের কীর্তি দেখে কেউ বলেছেন, “ওরে, এ যে সে সাপ নয় রে, চন্দ্রবোরা। বিপদ ডেকে আনিস না।” কেউ ভয় দেখিয়েছেন, “ওরে পালিয়ে আয়।” কেউ ছুড়ে দিয়েছেন টিপ্পনী, “মাছ ধরার মুরোদ নেই, ও আবার সাপ ধরবে!” এ সব কথা কানেই তোলেননি দিলীপ। তিনি গাছের বড় একটা ডাল হাতে সাপের পিছু নিতে নিতে বলেছেন, “আমার কিস্যু হবে না।” বরাত জোরে হয়ওনি। সত্যি সত্যিই সাপটিকে ধরে তিনি বস্তাবন্দি করে ফেলেন।

সাপ তো ধরা পড়ল। এ বার কী হবে? গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানান করিমপুর ১ বিডিও অনুপম চক্রবর্তীকে। তিনি গোলোক বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপরেই বস্তা থেকে বের করে সাপটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। গোলোক বলছেন, “করিমপুর এলাকায় কালাচ, গোখরো একাধিকবার উদ্ধার হলেও বেশ কয়েক বছর পরে এই প্রজাতির চন্দ্রবোরা উদ্ধার হল। ওই গ্রামের লোকজন সচেতন বলেই তাঁরা সাপটির কোনও ক্ষতি করেননি। সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদ। তবে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না থাকলে সাপ ধরার চেষ্টা করা উচিত নয়। যে কোনও সময় বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here