নিজস্ব সংবাদদাতা ● বহরমপুর

করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ। দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে ট্রেনের চাকা থমকে থাকায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে নিত্যযাত্রী ও রেলের হকারদের। যাত্রীরা অন্য যানবাহনে যাতায়াত করতে পারলেও রেলের হকাররা কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বদলে ফেলেছেন পেশা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মধ্যস্থতায় রেলমন্ত্রক ট্রেন চালাতে চাওয়ায় খুশির হাওয়া সব মহলে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বুধবার থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। তবে সংখ্যায় ট্রেন কম চলবে শুনে অনেকেই সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন। তাঁরা বেশি ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

লালগোলার মইদুল ইসলাম ট্রেনে চা বিক্রি করতেন। দীর্ঘ আট মাস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি পেশা বদলেছেন। এখন দিনমজুরি করে তাঁর সংসার চলে। ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্তে খুশি মইদুল। তিনি বলেন, ‘‘যাক শেষ পর্যন্ত ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্তে পুরনো পেশায় ফিরতে পারব।’’

ট্রেন চলবে শুনে খুশি হয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ট্রেন আমাদের জেলার ব্যবসায়ীদের লাইফলাইন। সেটাই গত মার্চ থেকে বন্ধ থাকায় আমাদের চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ট্রেন চলবে শুনে আমরা খুশি। তবে আমরা চাই সব ট্রেন চালানো হোক।’’

চিকিৎসকেরাও জানাচ্ছেন, যেখানেই ভিড় হবে, সেখান থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে। তাই ট্রেনের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এ জন্য ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তবে রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, যাবতীয় বিধি মেনেই ট্রেন চালানো হবে। যাত্রীরা যাতে মাস্ক পরে যাতয়াত করেন তা যেমন দেখা হবে, তেমনই ট্রেনের কামরা নিয়মিত স্যানিটাইজড করা হবে।

(ফিচার ছবিটি গুগল থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here