শুভদীপ ভট্টাচার্য ● বহরমপুর

অন্ধকার কানাগলি ধরে হাঁটতে হাঁটতে একসময় আলোর দেখা মেলে। ভয় মুছে গেলে পড়ে থাকে সুসময়ের অবকাশ। কালীপুজো, দীপাবলি, আলোর উৎসব। আলোর রোশনাইয়ে ভাসে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, চরাচর। কেটে যায় অন্ধকার। তেমনই এই দারুণ দুঃসময়ে বাসস্ট‌্যান্ড ইয়ংস কর্নারের  কালীপুজোর থিম করোনা ভাইরাস। একটা লালচে বল, তার চারপাশে কিছু স্পাইক। ভাইরাসের হাঁ-মুখের ভিতরে দাঁড়িয়ে কালীমূর্তি।

সচেতনতার বার্তা দিতে বহরমপুর বাসস্ট‌্যান্ড ইয়ংস কর্নারের থিম এ বার ভাইরাস। অন‌্যবারের চেয়ে বাজেট অনেক কম। তবে ক্লাবের সদস‌্যেরা চাঁদা তুলছেন এখনও। তবে সেই চাঁদার টাকায় অন্যরকম পরিকল্পনা রয়েছে। ক্লাবের সভাপতি তাপস দাস জানাচ্ছেন, সংক্রমণের ভয়ে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। তাই বাড়তি টাকা তাঁরা তুলে দেবেন কোভিড যোদ্ধাদের হাতে।

সময়টা নতুন হয়তো, তবে উদ‌্যোগটা নয়। ২০০০ সালের বন‌্যায় ভাসছে মুর্শিদাবাদ। ভাসছে পাড়, ভাঙছে ঘর, জলের উপর তরী ভাসালেন জীবনের পাহারাদারেরা। টিনের নৌকো নিয়ে পৌঁছলেন ঘরে ঘরে। উদ্ধারকাজ শেষে পুনর্বাসন। একদিন বানের জল নেমে গেল। কিন্তু জীবন-বানের উদ্দাম স্রোত ঘিরে থাকল ‘ইয়ংস কর্নার’কে। যে স্রোত প্রথম আছড়ে পড়ে ষাটের দশকে। ১৯৬২, চীন-ভারত যুদ্ধ। সারা ভারতের ছাত্রযুব বিস্মিত, বিভ্রান্ত। বহরমপুরের তাপস দাস আপাদমস্তক কংগ্রেসি। দেশপ্রেমের আবেগে টগবগে যৌবন। বন্ধুদের মধ‌্যে রাখলেন এক অদ্ভুত প্রস্তাব। সম্মত বন্ধুরা জুটিয়ে ফেললেন আরও কয়েকটি কাঁধ। শুরু হল কালীর আরাধনা। থিম তোতাপুরীর দিব‌্যজ্ঞান। যুদ্ধজয়ের লক্ষ‌্যে শক্তির আরাধনা। প্রতিষ্ঠা হল ইয়ংস কর্নারের। তারই সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ বছর অনুষ্ঠান নেই কোনও। মানুষের আনাগোনাও কম। সেরা পুজোর দৌড়ে টিকে থাকতে এ বার কোনও প্রতিযোগিতাতেও নেই ইয়ংস কর্নার। কিন্তু মানবিকতার রানওয়েতে কোভিড যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে হাতে অন্য ব্যাটন তুলে নিয়েছেন তাপসবাবু ও তাঁর সঙ্গীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here