শুভদীপ ভট্টাচার্য ● বহরমপুর

কেন্দ্র সরকারের নানা নীতির বিরোধিতা করে আগামী ২৬ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দশটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। ধর্মঘটকে সমর্থন করছে বাম ছাত্র-যুব-মহিলা সংগঠনগুলিও। বনধ সফল করতে চেষ্টায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না তারা।

কেন্দ্রের কৃষক বিল, শ্রমিক বিল, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এর মতো একের পর এক বিষয়ের বিরুদ্ধে লকডাউন পর্বেও বারবার সরব হয়েছে বামপন্থী দল ও তার গণসংগঠনগুলি। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কৃষক বিলের বিরোধিতা করে বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ে সভা করে কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিসান সভা। আরএসপি এর জেলা সম্পাদক বিশ্বনাথ বন্দ‌্যোপাধ‌্যায় বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি বিল চুক্তিচাষে বাধ‌্য করবে কৃষকদের। কর্পোরেট মালিকদের কেনা দাস হবে কৃষকরা, অধিকার লুট করা হবে কৃষকদের। লাভজনক আয়ের সুযোগটুকুও থাকবে না।”

তিনি জানান, এমনিতেই দেশজুড়ে অসহায় কৃষকের একমাত্র পথ আত্মহত‌্যা। তার উপরে লকডাউনকে ব‌্যবহার করে যে বিল আনা হয়েছে তারে সরাসরি হত‌্যা করা হবে কৃষকদের। এ জেলার বামপন্থী আন্দোলনের ইতিহাসে জোতদার, জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত লড়াইয়ের ঐতিহ‌্য বহন করছে আরএসপি। এই সময়ে তাই হাতিয়ার হিসাবে ধর্মঘটকে সফল করার মাধ‌্যমেই কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝানো যাবে, সরকারই শেষ কথা নয়।

এ দিনই নওদার ত্রিমোহিনীতে পিএসইউ-এর রাজ‌্য সম্পাদক নওফেল মহম্মদ সাফিউল্লার নেতৃত্বে ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচার করে পিএসইউ ও আরএসপি। দুপুর ২টোর সময় বহরমপুরের মধুবর্ষণ থেকে ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল করে এসইউসি-র ছাত্র-যুব-মহিলা সংগঠন। মিছিলে পা মেলান কান্দির যুবক রাজকুমার দাস। তিনি জানান, লোকসভা ভোটে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কালো টাকা ফিরিয়ে এনে ১৫ লক্ষ টাকা অ‌্যাকাউন্টে দেবে। বছরে দু’কোটি চাকরি দেবে। কিছুই মেলেনি।

ইসলামপুরের সোহিনী আলম কলেজ ছাত্রী। তিনি বলছিলেন, “জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ যেন ছাত্রছাত্রীদের জীবনের সঙ্গেই টি-টোয়েন্টি খেলা। এই নীতির ফলে গরিবের জন‌্য শিক্ষা হবে সংকুচিত আর শিক্ষা হবে ভার্চুয়াল। ফলে আমার ছেলেবেলার বন্ধুরা আর পড়তে পারবে না আমার সঙ্গে। তাই আমি এই মিছিলে।” মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের জেলা নেত্রী পর্ণা চক্রবর্তী বলেন, “নিত‌্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। তার উপরে কোভিড পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একের পর এক কালা-কানুন জারি করছে সরকার। জাতীয় সম্পদ বিক্রি করছে দেদার। অথচ স্লোগান দিচ্ছে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনের। শ্রমিক, কৃষক, চাষির অধিকার লুট হয়ে যাছে। এর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় দশটি ট্রেড ইউনিয়ন বনধ ডেকেছে। আমরা সমর্থন করেছি। বনধের সপক্ষে মিছিল করছি। আশা রাখছি, বনধ হবে সর্বাত্মক।”

বেকারের কাজের দাবিতে, পরিযায়ী শ্রমিকের পৃথক কাজের বন্দোবস্তের দাবিতে, সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদের শহরে মিছিল করে ডিওয়াইএফআই। সংগঠনের জেলা সম্পাদক ধ্রুবজ‌্যোতি সাহা বলেন, “বছরে দু কোটি চাকরি মেলেনি। লকডাউনে কাজ গিয়েছে লক্ষাধিক লোকের। তাঁদের জন‌্য কোনো মাথাব‌্যথা সরকারের নেই। প্রতিদিন বেকার সমস‌্যা তীব্রতর হচ্ছে, সরকার কোনও সমাধানের রাস্তা না দেখিয়ে একের পর এক কালা কানুন জারি করছে। এর বিরুদ্ধে ধর্মঘটের সমর্থনে জেলা জুড়ে চলছে প্রচার।”

বিকেল ৪টের সময় কল্পনা মোড়ে সভা করে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। একগুচ্ছ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বক্তব‌্য রাখেন সিটু, এআইসিসিটিইউ এবং এআইইউটিইউসি এর জেলা নেতৃত্ব। এআইসিসিটিইউ এর তরফে কাশেম সেখ জানান, শ্রমিক বিল শ্রমিক স্বার্থবিরোধী। সরকার এখন দেশ বিক্রির দায়িত্ব নিয়েছে। জাতীয় সম্পদ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। লুট করছে কর্পোরেট। সরকার ছাড়পত্র দিচ্ছে। এ অনাচারের বিরুদ্ধে বনধই একমাত্র হাতিয়ার।

এআইইউটিইউসি-এর আনিসুল আম্বিয়া বলেন, “বনধ হবে সর্বাত্মক। কেন্দ্রীয় সরকারের একগুচ্ছ জনবিরোধী নীতিতে মানুষ বিধ্বস্ত। পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার দিন আজও ঘোচেনি। আজও মার খাচ্ছে রেলের হকাররা। স্বাস্থ‌্যবিধি মেনে যথার্থ ব‌্যবস্থা নিতে সরকার ব‌্যর্থ। মানুষের রুটি-রুজির টান রয়েছে, সরকারের হেলদোল নেই। সরকার লকডাউনের ভারতে অত‌্যাচারের স্টিমরোলার চালিয়েছে। মানুষ বনধে জবাব দেবে।”

বিকেল ৫টায় শহরে মিছিল করে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সংগঠন ডব্লিউবিএমএসআরইউ। বেঙ্গল কেমিক‌্যালের বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে, রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার দাবিতে ও ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের উপর থেকে জিএসটি প্রত‌্যাহারের দাবিতে মিছিল করে তারা। মিছিল থেকে ধর্মঘট সর্বাত্মকভাবে সফল করার আবেদনও জানায় ওই সংগঠন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here