তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল ● কলকাতা

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই করোনা টিকা তৈরি হয়ে যাবে। তবে, টিকাকরণ প্রক্রিয়া ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হবে। টিকা উৎপাদনের পাশাপাশি সব রকম পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাজ শেষ হতে মাস খানেক সময় লাগবে। টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু হলে দেশের প্রবীণ নাগরিক ও করোনা যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই টিকা নিতে মাথাপিছু হাজার টাকা খরচ হবে‌।

সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া-র অধিকর্তা আদর পুনাওয়ালা। তিনি জানান,‌ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটিশ কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কোভিশিল্ড নামে যে করোনা টিকা ট্রায়ালের কাজ চলছে তা প্রায় শেষের দিকে। টিকা উৎপাদন নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু টিকা তৈরির পরে নানা আইনি প্রক্রিয়ার মধ‍্যে দিয়ে যেতে হয়। সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পরেও গণটিকাকরণে একটি দীর্ঘ প্রস্তুতি পর্ব থাকে, তাই কিছুটা সময় লাগবে। সমস্ত ভারতীয়কে এই টিকা ২০২৪ সালের  মধ্যে দেওয়া হবে।

সেরাম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই টিকার দু’টি ডোজ নেওয়া আবশ‍্যিক। এই দুই ডোজে টিকাকরণে খরচ হবে মাথাপিছু হাজার টাকা। সরকারের তরফে সব রকম ভর্তুকি দিয়ে ন্যূনতম অর্থ বেঁধে দেওয়া হবে। সব ভারতীয় যাতে এই করোনা টিকা নিতে পারে সে দিকে নজর দিয়েই সব রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, ভারতের তাপমাত্রার কথা মাথায় রেখেই টিকা তৈরির গবেষণা হয়েছে। তাই সেরাম-র এই টিকার কোল্ড চেন নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ নেই। তিনি জানান, মাইনাস দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই ভ‍্যাকসিন রাখা যাবে। ভারতের অধিকাংশ জায়গায় এমন কোল্ড স্টোর রয়েছে। তাই ভ‍্যাকসিন রাখা নিয়ে আলাদা পরিকাঠামো গড়তে হবে না। যা টিকাকরণের কাজে বাড়তি সুবিধা দেবে।

পাশাপাশি সেরামের তরফে জানানো হয়েছে, এই টিকা প্রবীণদের জন্য খুব কার্যকর। যা টিকা তৈরির ক্ষেত্রে সবথেকে বড় চ‍্যালেঞ্জ ছিল। করোনা অতিমারিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি প্রবীণদের। তাই টিকাকরণের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাঁদের দেহে টিকা ঠিকমতো কাজ না করলে মুশকিল হতো। টিকার কার্যকারিতা নিয়েই জোরালো প্রশ্ন উঠতো। কিন্তু যাচাই পর্বে দেখা গিয়েছে, এই টিকা টি-সেল তৈরিতে যথেষ্ট সক্ষম। করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এই টি-সেল খুব জরুরি। বয়স্কদের দেহে এই টিকা পর্যাপ্ত টি-সেল তৈরি করতে পারলে অতিমারির কামড় অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।

(ফিচার ছবিটি গুগল থেকে নেওয়া)