সুদীপ জোয়ারদার

মশা কামড়াচ্ছে। কামড়াক। মাথার উপর পাখির নোংরা পড়ল। পড়ুক। এই বয়সে রাতে এমনি ওঠেনি গাছে। একটা হেস্তনেস্ত আজ করবেই।

যতই সস্তা হোক, এরকম হবে জানলে এ পাড়ায় সত্যিই বাসা নিত না। এর আগে জোড়াপুকুরের ধারে ন’বছর কাটিয়ে এসেছে। কোনও অশান্তি হয়নি কিন্তু এখানে কয়েক মাসেই…। শিক্ষিত মানুষ, সবটা যে নিজেকে বলতেই রুচিতে বাধে! কিন্তু এটা তো ঠিক,সামথিং ইজ রং হেয়ার। এবং এই ‘রং’ সহ্য করা কঠিন।

বাতাসে কিছুদিন ধরেই ফিসফাস চলছিল। সেদিন প্রকাশ্যেই বলে দিল পাড়ার দিনু মুদি, ‘ঘর সামলান মাস্টার। ঘরে গ্রহণ লেগেছে।’

বিয়ের পর চোদ্দোটা বছর কিন্তু কোনও বেচাল দেখেনি বউয়ের। এখনও যে আচার-আচরণে অস্বাভাবিক কিছু আছে তা নয়। করোনায় একটা একটা করে টিউশন চলে গিয়েছে। তবু টলে যায়নি। টিকে থাকা খান কতক টিউশনের সামান্য টাকায় হাসিমুখেই চালাচ্ছে দুজনের সংসার।

কিন্তু ওই যে, ও টিউশনে গেলেই নাকি বখাটে ছোঁড়াটা এসে জোটে। ছেলেটার কথার আওয়াজ পাচ্ছে। গাছ থেকে নামল পবন। চুপিসাড়ে বারান্দায় উঠে কান পাতল দরজায়।

— না,না বিপ্লব এভাবে প্রায়-রোজ…

—কেন বারণ করছ কাকিমা?

—তোমার কাকু টের পেলে,মুখ দেখাতে পারব না।

ঘরে কি ঢুকবে পবন এ বারে? ঢুকতে গিয়েও দাঁড়িয়ে যায়।

—‘কাকুর টিউশন কমে গেছে। তোমাদের চলছে না আমি জানি। কেন না করছ? আমার মা নেই। তোমার মধ্যে আমি আমার মাকে দেখেছি। তোমার কষ্ট হলে আমার কি ভালো লাগবে বলো! প্লিজ় কাকিমা ফিরিয়ে দিয়ো না। রাখো টাকাটা।’

ছেলেটা বেরোচ্ছে। আবার লুকোতে হবে। আবার কি গাছে? সেই ভাল। গাছের একটা নিজস্ব জল-মোছানো রুমাল আছে। কাজে লাগবে।

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)