বহ্নিশিখা ঘটক

পতিতপাবন তলাপাত্রের অবস্থা খুবই ভাল। মফসসল শহরের বড়বাজারে তার মুদির দোকান রমরমিয়ে চলে। একতলা বাড়িটা দোতলা হয়েছে। ইচ্ছে আছে বাড়ির লাগোয়া জলাটা কিনে একটা টেলারিং শপ করার। বিয়ের সাত বছর পর ছেলে হল। পতিতের আনন্দ আর ধরে না!

এই সুখের সময়ে হঠাৎই ছন্দপতন। ছেলের জন্মের কিছুদিন পরেই বউ নিয়তির ক্যান্সার ধরা পড়ল। তাই নিয়ে শুরু হল কলকাতা-মুম্বই ছোটাছুটি। অপারেশনের পরে কেমো। আড়াই বছর ধরে নাজেহাল। হতাশা বেড়েই চলল।

জলের মতো পয়সা বেরিয়ে যাচ্ছে রোগের পিছনে। কতদিন দোকানে বসে না! কে জানে ব্যবসা লাটে উঠল কিনা! ছেলে মোটে তিন বছরের। ওকে বড় করার কম খরচ!

অথচ পতিতপাবন নিরুপায়। ভাইপো আর কর্মচারীদের হাতে দোকান ছেড়ে দিয়ে বউয়ের সেবায় দিনরাত পড়ে আছে। ঘড়ি-ঘণ্টা ধরে নিয়ম করে ওষুধ খাওয়ানো, তার দেখভাল করা মায়ের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি নাতিকে আগলাচ্ছেন। রান্না আর বাড়ির অন্য কাজের জন্য লোক আছে।

যারাই নিয়তিকে দেখতে আসে পতিতপাবনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমনটি তারা আর দেখেনি। নিয়তি গত দু’দিন ধরে কিছু খেতে চাচ্ছে না। ঘর ভর্তি ফল, ডিম, মাছ-মাংস। ডাক্তার বলেছেন, খাওয়াতে। আঙুর, বেদানা একসঙ্গে রস করে রেখেছে। বারে বারে সেটা খাওয়ানোর চেষ্টা চলছে।

— ‘কী হল, ফলের রসটা অন্তত খাও!’

নিয়তি পতিতপাবনের ধরা গ্লাসে চুমুক দিতে গিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল।

— ‘বমি হয়ে যাবে’, নাক-মুখ বিকৃত করল নিয়তি।

আগের দিন ফলের রসটা বানিয়েছিল। সেই থেকে এটা নিয়তিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করে চলেছে। খাচ্ছে না। ফ্রিজে তুলে রাখছে।

— ‘এখানে ফলের রসটা পড়ে রয়েছে কেন রে খোকা? বউমা না খায় তো দাদুভাইকে খাইয়ে দিই।’

পতিতের মা গ্লাসটা হাতে নিতেই পতিত ‘না’ বলে চিৎকার করে উঠল। তারপরে মায়ের হাত থেকে ছিনিয়ে নিল গ্লাসটা।

— ‘কী হয়েছে ?’ মা অবাক।

—‘কিছু না।’

শিশিটার উপর ‘পয়জন’ কথাটা বাংলাতেই লেখা! ফলের রসের গ্লাস হাতে পতিত ব্যস্ত হয়ে পড়ল ওটা সরাতে।

(ফিচার ছবিটি গুগল থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here