আব্দুল হাসিম ● রানিনগর

জুতো কিনতে বাজারে এসেছিলেন রতন দাস। দোকানে ঢুকেই তিনি বেশ অবাক হলেন। মাথার উপরে ঝুলছে রংবেরঙের মাস্ক। সে সব দেখে রতনবাবু মুচকি হাসলেন, ‘‘আজকাল জুতোর পাশাপাশি মাস্কের ব্যবসাও শুরু করলে নাকি?’’ উত্তর আসে, “আর বলবেন না দাদা, যা দিনকাল পড়েছে জুতোর থেকে এখন মাস্কই বেশি বিক্রি হচ্ছে।’’

তা কথাটা অবশ্য কথার কথা নয়। শুধু জুতোর দোকানই নয়, ওষুধ, পান-সিগারেট, চা, মুদি, কাপড়, বইয়ের দোকান থেকে শুরু করে মোবাইলের দোকানেও এখন দিব্যি বিকোচ্ছে মাস্ক। এমনকি পাড়ায় পাড়ায় যে ফিরিওয়ালারা আসেন তাঁরাও টিপ, চুড়ির সঙ্গে রাখছেন মাস্কও। যা দেখে অনেকেই বলছেন, ‘‘বঙ্গ জীবনের নতুন অঙ্গ এখন মাস্ক।’’ মাস্কের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিকোচ্ছে নানা কিসিমের হাতশুদ্ধিও।

একটা সময় গাঁ-গঞ্জ তো বটেই, শহরেও অনেকে মনে করতেন মাস্ক বা স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করা বিলাসিতা। কেউ সে সব ব্যবহার করলে ছিটকে আসত টিপ্পনী। এখন সেই টিপ্পনী কাটা লোকজনও মুখ ঢেকেছেন মাস্কে। পকেটে রাখছেন হাতশুদ্ধি। কেউই আর ‘ঝুঁকি’ নিতে চাইছেন না।

তৃষা মজুমদার বলছেন, “পুজোয় তো চুড়িদারের সঙ্গে ম্যাচিং মাস্কও দিয়েছিলেন দোকানদার। প্রথম দিকে মাস্ক পরতে একটু অস্বস্তি হলেও এখন এটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। মাস্ক ও স্যানিটাইজ়ার ছাড়া বাইরে বেরোতেই কেমন যেন লাগে।’’

রানিনগরের এক ওষুধ বিক্রেতা সোহেল আকতার বলছেন, “দোকানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পাঁচ টাকা দামের সার্জিক্যাল মাস্ক। দামি মাস্ক ও স্যানিটাইজ়ারেরও কাটতি ভাল।’’ বছরখানেক আগেও যার নাম শোনেননি বহু ব্যবসায়ী, তাঁরাও আজ দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখেন নানা কোম্পানির স্যানিটাইজ়ার।

কাহারপাড়া সীমান্তের এক বাসিন্দা রঞ্জিত মণ্ডল বলছেন, ‘‘করোনার কারণে কত অভ্যাস বদলে গেল। এখন বাড়িতে সাবানের ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বাইরে গেলেও সঙ্গে সবসময় মাস্ক ও স্যানিটাইজ়ার রাখি।’’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here