তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল ● কলকাতা

বছরের শেষ উৎসবে ছুটি নেওয়ার অনুমতি পেতে পারেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ‍্যকর্মীরা। বড়দিন উপলক্ষে শহরের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালে ছুটি নেওয়া নিয়ে আলাদা কোনও নিয়ম থাকছে না। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা ছুটি নিতে পারেন। এমনকি শহরের বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে ২৫ ডিসেম্বর করোনা পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, করোনা চাপ এখন অনেকটাই কম। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়নি। বছরভর যে ভাবে সমস্ত স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিষেবা দিয়েছেন, তাতে তাঁদের বিশ্রাম জরুরি। এই সময়ে করোনা প্রকোপ কিছুটা নিম্নমুখী। তাই কেউ ছুটি নিতে চাইলে বিশেষ আপত্তি করা হবে না।

করোনা‌ অতিমারির প্রকোপ শহরে দেখা দিতেই ‘ছুটি’ বাতিল হয়েছিল কলকাতার সব হাসপাতালে। নববর্ষ, দুর্গাপুজো, দীপাবলি-সহ নানা উৎসবে শহরের সব হাসপাতালে ছুটি বাতিল করা হয়। দুর্গাপুজোর সময়ে রাজ‍্য জুড়ে ব‍্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছিল। দৈনিক সংক্রমণ চার হাজারের বেশি হচ্ছিল। তাই চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের সমস্ত ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছিল, সমস্ত চিকিৎসকদের প্রতিদিন রাউন্ড দিতে হবে। যে কোনও পরিস্থিতিতেই তাঁদের ডিউটি চালিয়ে যেতে হবে।

গত কয়েক মাসে এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। স্বাস্থ্য দফতরের করোনা রিপোর্ট কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই রাজ‍্যে করোনা সংক্রমণ কমেছে। হাসপাতালগুলোর ফাঁকা শয‍্যাও সে দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পিয়ারলেস হাসপাতালে ১৫০টি শয‍্যা করোনা রোগীদের জন‍্য নির্ধারিত। কিন্তু এখন ৫০-এর বেশি শয‍্যা ফাঁকা। আর এন টেগর হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে সেখানেও ৫০-এর বেশি আসন ফাঁকা। মেডিকা সুপার স্পেশ‍্যালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শেষ কয়েক সপ্তাহে সেখানে করোনা রোগীর চাপ অনেকটাই কম। তাই তাঁরাও জরুরি পরিস্থিতির তকমা দিতে নারাজ।

এক টানা প্রায় দশ মাস ধরে অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মীই শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ। তাই তাঁদের বিশ্রাম জরুরি। তবে, একসঙ্গে অনেকে ছুটি নিলে পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে না। সে দিকে খেয়াল রেখেই ছুটির বিষয়টি দেখছেন শহরের বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here