ইন্দ্রনীল সামন্ত

এই অতিমারির সময়ে পোষ্য কুকুর ও বিড়ালের অতিরিক্ত নজরদারি প্রয়োজন। সুষম আহার, পর্যাপ্ত পানীয় জল ছাড়াও প্রয়োজন হাঁটাহাটি ও শারীরিক কসরত। পোষ্য কুকুরের পাড়ায় হাঁটাহাটি করার সময়ে নজরে পড়ছে মুখে মাস্কের ব্যবহার। আমরা নিজেদের মতোই সাজিয়ে নিতে চাই আমাদের পোষ্যদেরও। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, ওরা ওদের সুবিধা-অসুবিধার কথা আমাদের ভাষায় বলতে পারে না। আমরা ওদের ভাষা বুঝি না। আর ধরে নিই যে, মাস্ক বোধহয় ওদেরও খুব জরুরি। যা সত্যি নয় মোটেই। আমরা সবাই এতদিনে জেনে গিয়েছি যে, করোনা ভাইরাসের অনেকগুলি প্রজাতি আছে। কুকুর-বিড়ালেরও এক ধরনের করোনা সংক্রমণ হয় এবং সেটার প্রতিরোধে টিকার ব্যবহারও প্রচলিত। কিন্তু ‘এই’ করোনা ‘সেই’ করোনা নয়।

এ বারে জানব, কুকুর, বিড়ালের কোভিড সংক্রমণের সম্ভাবনা কতখানি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যন্ড প্রিভেনশন’ এই প্রসঙ্গে জানাচ্ছে, সংক্রমণের সম্ভাবনা সামান্য। এই সংক্রমণের উৎস কিন্তু আমরা, অর্থাৎ পোষ্যের মালিকেরা যাঁদের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছে পোষ্যগুলি। নিউ ইয়র্কের একটি চিড়িয়াখানায় নাদিয়া নামে একটি বাঘ এপ্রিল মাসের গোড়ায় প্রথম সংক্রামিত হয়। সংক্রমণ ছড়িয়েছিলেন একজন কর্মচারী যিনি দায়িত্বে ছিলেন ওই বাঘের খাঁচার। পরে অবশ্য বাঘটি সুস্থ হয়ে ওঠে। এ ছাড়া হংকং ও ইউরোপের কিছু দেশে কুকুর-বিড়ালের শরীরে ভাইরাস অথবা অ্যান্টিবডির সন্ধান পাওয়া যায়। তবে সংখ্যায় এই সংক্রমণ নগন্য। এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে বেজি, বিড়াল আর হ্যামস্টারে কোভিড সংক্রমণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে দেখা গিয়েছে, সংক্রামিত কুকুর অন্য কুকুরে সংক্রমণ ছড়াতে অক্ষম। এই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।

এ বারে জানব, পোষ্য কুকুর ও বিড়ালের কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধে কী করণীয়। ক) পোষ্য কুকুর ও বিড়ালের সঙ্গে বাইরের মানুষ বা পশুপাখির সংস্পর্শ কমাতে হবে। খ) যদি বাড়িতে কেউ করোনায় আক্রান্ত হন বা কেউ হোম কোয়রান্টিনে থাকেন তবে পোষ্যকে আলাদা ঘরে রাখতে হবে। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি যেন পোষ্যের সংস্পর্শে না আসেন। গ) কুকুরকে চেন দিয়ে বেঁধে হাঁটানো যেতে পারে। কিন্তু অন্য ব্যক্তি ও পশুর থেকে ৬ ফুট দূরত্ববিধি পালন করতে হবে। ভিড় জায়গায় যাওয়া যাবে না। ঘ) বিড়ালকে ঘরের বাইরে বেরোতে দেওয়া যাবে না

কুকুর, বিড়ালকে অ্যালকোহল, হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মেশানো জল দিয়ে স্নান করানো উচিত নয়। ওদের ত্বক বা লোম থেকে কোভিড সংক্রমণের কোনও রিপোর্ট নেই। পরিশেষে জানাই, অনেকেই পোষ্য কুকুর, বিড়ালের মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন যা একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়। বুলডগ, বক্সার, পাগ প্রজাতির কুকুর শ্বাসজনিত সমস্যায় ভোগে সারা বছর। আমাদের দেশের গরম ও আদ্র আবহাওয়াতে মুখ খুলে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে বহু প্রজাতির কুকুর। এদের মুখে মাস্ক পরালে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা আরও বাড়ে এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আমরা যদি সারাদিন ঘরে মাস্ক পরে কুকুরের সঙ্গে খেলা করতে যাই তা হলেও সমস্যা হতে পারে। কুকুর মূলত মুখের ভাব দেখে যোগাযোগ করে এবং সেটা ব্যাহত হলে এদের ব্যবহার সংক্রান্ত নানা সমস্যাও দেখা দেয়।

(লেখক পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here