নিজস্ব প্রতিবেদন

জলপথ পরিবহণে ফরাক্কা হয়ে বারাণসী থেকে বাংলাদেশ, ত্রিপুরা ও অসমের মধ্যে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদীপথকে জুড়তে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই জলপথ পরিবহণ ব্যবস্থা দু’বছরের মধ্যে চালু হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ফরাক্কা হয়ে উঠবে জলপথ পরিবহণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

সম্প্রতি বন্দর, জাহাজ ও নৌপথ পরিবহণের রাষ্ট্রমন্ত্রী মানসুখ মান্ডাভিয়া ফরাক্কায় গঙ্গার উপর ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ নেভিগেশন লকগেট পরিদর্শনে ফরাক্কায় আসেন। ওই লকগেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেই কাজ শেষ হয়ে গেলে জলপথ পরিবহণে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে দাবি জাহাজ মন্ত্রকের।

ফরাক্কায় লকগেটটি তৈরি হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। সেখান দিয়ে বার্জ কিংবা জাহাজ যাতায়াত করতে প্রায় ৩৮ মিনিট সময় লাগার কথা। কিন্তু পলি জমা-সহ নানা সমস্যায় প্রায় দু’ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। ফরাক্কায় দ্বিতীয় লকগেটটি চালু হয়ে গেলে সেই সময় কমে আসবে অনেকটাই।

জলমার্গ বিকাশ পরিযোজনা মন্ত্রকের এক কর্তা জানান, জলপথ পরিবহণ, রেল ও সড়ক পরিবহণের থেকে আর্থিক দিক দিয়ে অনেকটাই সাশ্রয়ের। এবং পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রেও যথেষ্ট লাভদায়ক। কারণ, সড়ক পথের চেয়ে রেলপথে খরচ কম, তার চেয়েও অনেক খরচ কম জলপথে। জলপথ পরিবহণে সামগ্রিক ভাবে জ্বালানির সাশ্রয় এবং সড়কপথের চেয়ে  ৫০ শতাংশ দূষণও কম। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও অনেক কম।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, গঙ্গায় বারাণসী থেকে হলদিয়া পর্যন্ত ১৪০০ কিলোমিটার জলপথ তৈরির কাজ চলছে। জলমার্গ বিকাশ পরিযোজনার অধীনে ৫৪০০ কোটি টাকা খরচে ২০২৩ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ করা হবে। এ পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বারাণসীতে মাল্টি মডেল টার্মিনাল, সাহেবগঞ্জে মাল্টি মডেল টার্মিনাল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। হলদিয়াতে দু’মাসের মধ্যে মাল্টি মডেল টার্মিনাল তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। পটনা পর্যন্ত ৮০০ কিলোমিটার জলপথে ২.৫ মিটার গভীরতা নিশ্চিত হওয়ায় সেখানে ইতিমধ্যেই বার্জ ও ছোট জাহাজ চলাচল শুরু করেছে। এই জলপথ পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে বিরাট লাভবান হবে মানুষ।

উত্তর ভারতের বারাণসী সরাসরি ১৪০০ কিলোমিটার দূরের সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। সমুদ্র থেকে জাহাজ ফরাক্কা হয়ে বারাণসী পর্যন্ত যেতে পারবে। সাহেবগঞ্জ থেকে নেপালও সংযুক্ত হবে। সাহেবগঞ্জে একটি মাল্টি মডেল টার্মিনাল ও একটি লজেস্টিক পার্ক বানানো হবে। সেখানে ছোট ছোট শিল্পও আসবে। উদ্দেশ্য রেল ও স্থলপথে পরিবহণের চাপ কমিয়ে জলপথকে শক্তিশালী করা। গঙ্গার পাশে ৩৬টি জায়গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে পর্যটন কেন্দ্র ও সম্ভাবনাময় কৃষিক্ষেত্র রয়েছে। ওই সব এলাকায় ছোট ছোট ভাসমান জেটি তৈরি করা হবে, যাতে জল কমলে ও বাড়লে তা ব্যবহারে কোনও সমস্যা হবে না।

ইংরেজরা কলকাতাকে রাজধানী বানিয়ে বাংলায় সর্বপ্রথম তাদের বাণিজ্য শুরু করে। একসময় ইংরেজরাও এই জলপথ ব্যবহার করত। নৌ জলপথ মন্ত্রক সেটাকে ফের চালু করতে চাইছে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তর ভারতের যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়বে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য বিমান, রেল ও সড়ক পরিবহণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু জলপথে যোগাযোগ ছিল না। বাংলাদেশের দু’টি বন্দর চট্টগ্রাম ও মঙ্গলাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের আগে ব্যবহার হলেও যুদ্ধের পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। ওই দুটি বন্দরকেও সংযুক্ত করা হচ্ছে। ফলে দু’টি দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও সহজ হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সুন্দরবন হয়ে হলদিয়া জলপথে ট্রায়াল রান শুরু হয়েছে। ড্রেজিংয়ের কাজও চলছে। মন্ত্রকের দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাণিজ্যও চালু হয়ে যাবে বাংলাদেশের সঙ্গে। সোনামুড়া ও করিমগঞ্জের জলপথকে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here