শুভদীপ ভট্টাচার্য ● বহরমপুর

জেলা শিক্ষা দফতরে অভিযোগ জমা পড়েছে গত ২৪ ডিসেম্বর। এ বার ই-মেলে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ফের অভিযোগ জানালেন স্কুল শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, অভিযোগ জানানোর পরে কেটে গিয়েছে প্রায় ১৫ দিন। এখনও পর্যন্ত সেই অভিযোগের কোনও কিনারা হল না। তাই, জেলা শিক্ষা দফতরের প্রতি ‘আস্থা’ না রাখতে পেরেই তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন।

ইঙ্গিতটা অবশ্য মিলেছিল শুক্রবারেই। অভিযোগকারী শিক্ষকদের একাংশ জেলা শিক্ষা দফতরের ভূমিকায় ‘হতাশ’ হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছিলেন। তার চব্বিশ ঘণ্টা না পেরোতেই মেল গেল শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুলের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিযোগকারী শিক্ষক বলেন, ‘‘জেলা শিক্ষা দফতরের তদন্তের বহরে আমরা সন্তুষ্ট নই। সেই কারণেই শনিবার রাত ৭টা ৫০ নাগাদ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি মেল পাঠানো হয়েছে। সেই মেলে আগের অভিযোগপত্র ও একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এখন শিক্ষামন্ত্রী কী করেন, সেই দিকেই আমরা তাকিয়ে আছি।’’

স্কুল ও শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিমাদ্রী চৌধুরী প্রশাসনিক ও আর্থিক বেশ কিছু কাজকর্মে নিয়মভঙ্গ করেছেন বলে গত ২৪ ডিসেম্বর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্কুল শিক্ষকদের একাংশ। পরে অভিযোগ জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রাক্তনীও। কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিমাদ্রী চৌধুরী গত দু’দিন মূল প্রসঙ্গ পাশ কাটিয়ে গেলেও শনিবারে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘‘আমার পদ্ধতিগত যে ত্রুটিগুলো ছিল সেগুলো লিখিত ভাবে জানিয়েছি।’’

তবে কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুলের এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন ছাত্র, অভিভাবক ও প্রাক্তনীদের একাংশ। তাঁরা জানিয়েছেন, করোনা ও লকডাউনের কারণে সব স্কুলের মতোই পঠন-পাঠন বিঘ্নিত হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন এই স্কুলেও। এই সময়ে শিক্ষকদের উচিত ছিল, পড়ুয়াদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া। সে সব না করে স্কুলে যা চলছে তা লজ্জার।

স্কুলেরই এক শিক্ষকের দাবি, ‘‘যাই ঘটে থাকুক না কেন, তার তদন্ত করে সাঙ্গ করে স্কুলের পরিবেশ আবার আগের মতো হোক। সেটাই সবার জন্য মঙ্গল। ব্যক্তির জন্য সমষ্টি আর কতদিন ভুগবে?’’ এক অভিভাবিকার বক্তব্য, ‘‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনে হতাশ হয়েছি। তদন্ত হোক। সত্য প্রমাণিত হোক। সেটাই আমরা চাই।’’ আর এক অভিভাবক বলছেন, ‘‘একটা দমবন্ধ করা পরিস্থিতি চলছে। এ বার তা শেষ হোক। সত্যিটা সামনে আসুক।’’

কয়েকজন প্রাক্তনীর কথায়, ‘‘স্কুল কিন্তু ব্যক্তিরও ঊর্ধ্বে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছে। অথচ নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে আমাদের গর্বের স্কুল সম্পর্কে। এটা আমরা মানতে পারছি না। আর তদন্তও তো অনন্তকাল ধরে চলতে পারে না। শুনেছি, শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। আশা করি এ বার এর একটা বিহিত হবে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here