নিজস্ব প্রতিবেদ‌ন

জাল নোট, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকের পরে এ বার চোরাই মোবাইল!

শুক্রবার গভীর রাতে এক বেসরকারি যাত্রীবাহী বাস থেকে যে এ ভাবে দু’জন যুবকের কাছ থেকে ৭৭টি চোরাই মোবাইল মিলতে পারে তা ভাবতেও পারেননি জঙ্গিপুরের পুলিশ জেলার কর্তারা। বছর ছাব্বিশেরর ধৃত দুই যুবকের নাম মোস্তাফিজুর রহমান ও নাসিউল শেখ। তাঁদের বাড়ি মালদহের কালিয়াচকে। মোস্তাফিজুর মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা, নাসিউলের বাড়ি খাসচাঁদপুর গ্রামে। তাঁদের কাছে মিলেছে ৩১টি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ডও।

পুলিশ জানিয়েছে, মুম্বই থেকে এই সব চোরাই মোবাইলগুলি নিয়ে কালিয়াচকে যাচ্ছিলেন ওই দুই যুবক। সেখানে এক মোবাইল ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ও সিমকার্ডগুলি দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। শেষরক্ষা অবশ্য হয়নি। তার আগেই ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে রঘুনাথগঞ্জের উমরপুর মোড়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা চোরাই মোবাইলের এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে পুলিশের সন্দেহ। এই কারবারে কোনও বড় চক্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ কাররা জানান, জেলা পুলিশের সাইবার অপারেশন টিম ও রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ যৌথ ভাবে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে উমরপুরে তল্লাশি চালাচ্ছিল। শেষ রাতে একটি বাস থেকে ধরা হয় দু’জনকে। তাঁদের পিঠে ছিল স্কুল ব্যাগ। সেই দুটি ব্যাগ থেকেই মেলে ৭৭টি বিভিন্ন নামী কোম্পানীর দামি মোবাইল ফোন।  মুম্বই থেকে এই সব চোরাই মোবাইল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কালিয়াচকে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েক জন জড়িত বলেই পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের গ্রেফতার করার চেষ্টাও চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মুম্বইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই মোবাইল ফোনগুলি চুরি করা হয়। মুম্বই থেকে মোবাইলগুলি নিয়ে ট্রেনে তাঁরা এসে নামেন বর্ধমান রেল স্টেশনে। সেখান থেকে মালদহগামী রাতের বেসরকারি বাস ধরেন তাঁরা। গোপনে খবর আসে জঙ্গিপুরের সাইবার সেলে। তারপরেই রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত ১২টা থেকে উমরপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বাসগুলিতে তল্লাশি শুরু হয়। দুই যুবকের পিঠে থাকা স্কুল ব্যাগ দেখে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে পড়ে একের পর এক মোবাইল ফোন। পুলিশের সন্দেহ, এই সিমকার্ডগুলি পুরনো মোবাইলের। ট্র্যাকিংয়ের ভয়ে সেগুলি মোবাইল থেকে খুলে ফেলেন তাঁরা। আরও তথ্য জানার জন্য ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here