নিজস্ব সংবাদদাতা ● সুতি

বিজ্ঞাপন, সচেতনতা, প্রচার— কিছুতেই ‘রোগ’ সারছে না!

সেই রেষারেষি, আইন ভাঙা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, দুর্ঘটনা এবং মৃত্যু। দিনকয়েক আগেই রেজিনগরে পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন ছ’জন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে ফের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের তিন জন। একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে। সোমবার সকালে সুতির আহিরণের মাঠপাড়ায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ঘটনা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন সকাল ১০টা নাগাদ একটি গাড়ি যন্ত্রচালিত ভ্যানের পিছনে ধাক্কা মারে। মৃত ও জখম সকলেই ওই ভ্যানেরই যাত্রী। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি গাড়ির মধ্যে রেষারেষির জেরেই এই দুর্ঘটনা। যন্ত্রচালিত ভ্যান ও ঘাতক গাড়িটিকে পুলিশ আটক করলেও অন্য গাড়িটি দুর্ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত কুরবান শেখ (২৫), তাঁর মা সুলেখা বিবি (৪০) ও দিদিমা মালেকা বেওয়া (৫৪) সুতি এলাকার বৈষ্ণবডাঙা ও আমুহার বাসিন্দা। কুরবানের বাবা বজলে আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ দিন তাঁরা সকলেই ভ্যানে করে শমসেরগঞ্জে এক চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন। তখনই জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনা।

ঘটনার পরে শোকস্তব্ধ বৈষ্ণবডাঙা। কুরবানের আত্মীয়েরা জানিয়েছেন, সংসারের একমাত্র কুরবানই ভ্যান চালিয়ে রোজগার করতেন। তিনি এ ভাবে চলে যাওয়ায় সংসার কী ভাবে চলবে ভেবে পাচ্ছেন না কেউ। নাগাড়ে কেঁদে যাচ্ছেন কুরবানের স্ত্রী। তিনি বলছেন, ‘‘বহু বার বলেছিলাম, এতটা পথ লছিমনে (যন্ত্রচালিত ভ্যান) না গিয়ে বাসে যাও। কেউ কথা শুনল না। বাসে গেলে এমনটা কিছুতেই হত না। সব শেষ হয়ে গেল ।’’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দু’টি গাড়ি একই দিকে তীব্র গতিতে রেষারেষি করতে করতে চলছিল। তখনই একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যন্ত্রচালিত ভ্যানের পিছনে ধাক্কা মারে। দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে মারা যান কুরবান। পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় সড়কে অটো, টোটো ও যন্ত্রচালিত ভ্যান চলাচল বহু আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু অনেক জায়গাতেই সেই নিষেধ মানা হয় না। জঙ্গিপুর জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, এ বার কড়া পদক্ষেপ করা হবে। যা শুনে স্থানীয় লোকজনের প্রতিক্রিয়া, ‘‘আরও কত প্রাণহানির পরে কড়া পদক্ষেপ করবে পুলিশ!’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here