গৌরব বিশ্বাস ● নওদা

এন্তার লোক, থিকথিকে ভিড়, জমজমাট খেলা। এবং সেই খেলার নাম ফুটবল!

জনসংযোগের এই চেনা এবং পুরনো হাতিয়ারকেই বেছে নিয়েছেন যিনি তিনি গত কয়েক মাস ধরেই নবাবভূমে বিতর্ককে সঙ্গী করেই ঘুরছেন। হাত ছেড়ে তিনি একদা ঘাসফুলে এসেছিলেন। ‘অধিকার’ বুঝে নিতে তাঁর একসময়ের ‘কাছের মানুষ’ সম্প্রতি সমূলে ‘তৃণ’ ছেড়ে সটান‌ চলে গিয়েছেন ‘পদ্ম’বনে। এ সব নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। তবুও তিনি হাসতে হাসতেই বলছেন, ‘‘আমি আমার মতো। কারণ, মানুষ তো আমার সঙ্গেই আছেন।’’ এখন জেলা রাজনীতির অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ‘‘পদ্ম নয়, তৃণও নয়, তিনি নাকি আবার ভরসা রাখছেন ছেড়ে আসা সেই ‘বিশ্বস্ত’ হাতেই! দলবদল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।’’

ভোটের মুখে রাজনীতির আঙিনায় এ সব নিয়ে চর্চা চললেও নওদা, সব্দরনগর, সর্বাঙ্গপুর, শ্যামনগরের মতো প্রত্যন্ত গাঁ-গঞ্জ বলছে অন্য কথা। ঘোষকের ঘোষণায় থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছেন অনেকেই। অমায়িক না হলেও মাইকে যা ভেসে আসছে তা কান বিশ্বাস করতে বাধ্য হলেও প্রশ্ন তুলছে চোখ। কিন্তু চক্ষু-কর্ণের বিবাদ ভঞ্জন হলে হাতে যা পড়ে থাকে তা পেনসিল নয়, নিপাট ধোঁয়াশা।

সব্দরনগরের ফুটবল মাঠের মঞ্চ থেকে ঘোষক তখনও বলে চলেছেন, ‘‘আমাদের দাদার অনুপ্রেরণায়…।’’ কিন্তু অনুপ্রেরণা তো এ বঙ্গে একজনেরই…। তা হলে এ দাদা কোন দাদা? ফুটবলে বুঁদ এক দর্শক বলছেন, ‘‘এ দাদা আলাদা গো, এ দাদা আলাদা।’’ কথায় কথায় জানা যায়, ‘রবিনহুড’ নয়, ‘অধিকারী’ নয় এ দাদা ‘মণ্ডল’। আর যত ‘গন্ডগোল’ এখানেই!

ঠিক তখনই একটা ‘গো…ও…ও…ল’ হতেই সাউন্ড বক্স কেঁপে ওঠে—‘টুম্পা…তোকে নিয়ে দিঘা…’। গর্জে ওঠে মাইকও, ‘‘ফাইনালে আর বড়ও ধামাকা আছে….। আপনাদের সবার নিমন্ত্রণ রইল।’’ নিমন্ত্রণ নাকি স্পষ্ট ইশারা? কার এলাকা, কিসের জোট, কোথায় যাবে ‘হিসেবি’ ভোট!

বিদেশি খেলোয়াড়, মাঠভরা দর্শক, ‘টুম্পা’র নাছোড়বান্দা দুলুনি পেরিয়ে একাকার হয়ে যায় ফুটবল আর রাজনীতি। পড়ে থাকে স্রেফ ভোট, ভোট আর ভোট। পড়ন্ত বিকেলে কেউ জানতে চায় না, ‘‘তোমার মন নাই ভোটার?’’ ঘোলা জলে অনেকেই যখন মাছ ধরতে নেমেছেন তখন তিনি একদৃষ্টে ময়দানের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করছেন, ‘‘হাতে সময় খুব কম। গোলটা দরকার।’’

এ গোল কোন গোল? ফুটবল নাকি…?

ফের তিনি ভাসিয়ে দেন জমাট ধোঁয়াশা, ‘‘বুঝতে পারছেন না, দর্শকরা কী চাইছেন!’ খেলাতে বিনোদন আছে ঠিকই। কিন্তু দর্শকই তো আসল। তাই না? দর্শক না থাকলে কোন খেলায় টানটান ব্যাপার থাকে, বলুন তো?’’

সেই টানটান ‘ব্যাপার’ই তো চলছে আজ কয়েক মাস ধরে। দলের ব্যানার ছাড়া তিনি অনুষ্ঠান করছেন। প্রয়াত কর্মাধ্যক্ষের স্মরণসভার আয়োজন করেছেন। যে সব এলাকায় জনসংযোগে মন দিয়েছেন সেখানে দল-টল নয়, শুধু তাঁরই নামে পোস্টার, ফেস্টুন, তোরণ এবং ব্যনার।

কিন্তু ঘাসফুল ও মাটি কামড়ে পড়ে আছেন যাঁরা তাঁরাও এ সবের শেষ দেখে ছাড়তে চান। তাঁদের একজন বলছেন, ‘‘আগে দল, তারপরে ব্যক্তি। দলে থেকে এ সব ব্যক্তিপ্রচার চলবে না। বিষয়টি আমরা রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি।” যা শুনে তিনি মুচকি হাসছেন, ‘‘খেলাটা খেলাই। এখানে হার-জিত থাকে। সেটাকে খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব নিয়েই দেখা উচিত।’’

এ খেলার ফাইনাল আগামী ২৬ জানুয়ারি। কিন্তু ওপিঠের খেলায় সত্যি সত্যিই কি ‘ফাইনাল’ বলে কিছু হয়?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here