নিজস্ব প্রতিবেদন

কুয়াশা মানেই কু ডাকে মন! সেই কুয়াশাতেই তো জলঙ্গির বাঁকে পথ হারিয়েছিল পিকনিক ফেরত বাস। লালবাগ থেকে আর করিমপুরে পৌঁছতে পারেনি বাসটি। রাস্তা থেকে নেমে পড়ে সটান পদ্মায়। ১৯৯৮ সালের ১৩ জানুয়ারির সেই ঘটনায় প্রাণ যায় ৬৪ জনের। আজ প্রায় ২২ বছর পরেও নদিয়া-মুর্শিদাবাদ ভুলতে পারেনি সেই ঘটনা। বদলে যাওয়া সেই জলঙ্গির বাঁকে দাঁড়িয়ে আজও অনেকের জলে ভিজে যায় চোখ।

শুধু জলঙ্গি নয়, জানুয়ারি মানেই বালিরঘাট, বেলডাঙা, রেজিনগর, আহিরণ— তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি বালিরঘাট বাসডুবির ঘটনায় মারা যান ৪৪ জন। সেই মাসেই বেলডাঙায় বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ন’জনের। এ বছরে ৫ জানুয়ারি পিকনিক স্পটেই পৌঁছতে পারেনি একটি পিকআপ ভ্যান। তার আগেই রেজিনগরে দুর্ঘটনায় নিথর হয়ে যায় ছ’টি তাজা প্রাণ। সম্প্রতি আহিরণে একটি দুর্ঘটনাতেও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এ বারেও শীতকালে দুর্ঘটনা রুখতে সচেতনতামূলক প্রচারে নেমেছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানাচ্ছেন, শীতকালে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যায়। কয়েক ফুট দূরে থাকা জিনিসপত্রও স্পষ্ট দেখা যায় না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই ঘন কুয়াশা পড়লে রাস্তা থেকে কিছুটা দূরে গাড়ি পার্কিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার গাড়িতে দু’জন চালক, প্রতিটি গাড়িতে ফগ লাইট লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতে গাড়ি চালানোর সময় যাতে চালকেরা ঘুমিয়ে না পড়েন তার জন্য গাড়ি থামিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের চা-জল খাওয়ানো হচ্ছে। মত্ত অবস্থায় যাতে কেউ গাড়ি না চালান সে ব্যপারেও কড়া নজর রাখছে পুলিশ।

পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়ক এবং রাজ্য সড়কের বাঁকে এবং যে সব জায়গা দুর্ঘটনাপ্রবণ সেখানে সাইনেজ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পূর্ত দফতর ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। রেজিনগর থেকে বেলডাঙা পর্যন্ত বেশ কিছু জায়গায় জমি জটে আটকে রয়েছে চার লেনের কাজ। ফলে ওই সব এলাকায় দুই লেন থাকার কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে জমিজট কাটানোর ব্যপারে উদ্যোগী হচ্ছে প্রশাসন। রেজিনগরের দাদপুর, মরাদিঘি-সহ বেশ কিছু এলাকায় স্থানীয় পঞ্চায়েতকে রাস্তার ধারে আলোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে নদীপথে দুর্ঘটনা রুখতে ঘন কুয়াশা পড়লে নৌ-চলাচল বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here