তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল ● কলকাতা

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় কাজ না করলে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিল করতে পারে‌ সরকার। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বিনা চিকিৎসায় ফিরে আসেন, তাহলে সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। সেই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার অধিকার সরকারের আছে‌।

সম্প্রতি ঠিক এমন বার্তাই দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, রাজ‍্যবাসীকে সুচিকিৎসা দেওয়ার জন‍্য এই প্রকল্প। সাধারণ মানুষকে তাই কোনওভাবেই হেনস্থা করা যাবে না। তিনি কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে জানিয়েছেন, কেন্দ্র সরকার ৬০:৪০ অনুপাতে কাজ করে। সরকার চিকিৎসা খরচের ৬০ শতাংশ দিলেও ৪০ শতাংশ রোগীকে দিতে হয়। কিন্তু রাজ‍্য সরকার এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ পুরোটাই দেবে।

সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েই শেষ নয়, বেসরকারি হাসপাতালেও নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক সপ্তাহ আগেই সে কথা জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বাজারের তুলনায় অতিরিক্ত কম দামে বিপুল সংখ্যক মানুষকে পরিষেবা দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি পরিষেবা দেওয়ার পরে সেই খরচ হাসপাতালের কাছে পৌঁছতেও অনেক দেরি হয়। তাই অনেক হাসপাতাল এই প্রকল্পের আওতায় থাকতে নারাজ।

সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের সদিচ্ছা সম্পর্কে যাতে পরিষ্কার ধারণা থাকে, সেই কারণে হাসপাতালে ভর্তির জটিলতা এড়াতে সব রকম আইনি সহযোগিতার কথা প্রশাসনের শীর্ষ মহলের তরফে জানানো হয়েছে। এ দিকে, লাইসেন্স বাতিলের হুমকিও বেসরকারি হাসপাতালকে চাপে রাখবে বলেই মনে করছেন অনেকে। যদিও বিরোধীদের প্রশ্ন, ভোট রাজনীতির কথা ভেবেই কি শুধু ঘোষণা করা হচ্ছে? কারণ, রাজ‍্যবাসীর স্বাস্থ্য খরচ সরকার কাঁধে তুলে নিলেও বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়েনি। তাছাড়া, রাজ‍্যের স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ হয়, তা এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত নয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই মত, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের তরজায় শাসক-বিরোধী দু’পক্ষেরই অন্যতম বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প।

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here