স্বাতী চট্টোপাধ্যায়

বর্তমান বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত৷ প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে নাগরিকদের ভোটাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ সপ্তদশ শতাব্দীতে  জন লক, অষ্টাদশ শতকে রুশো জনাদেশের যে ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন তারই প্রয়োগ আধুনিক নির্বাচনে ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রায় সব দেশেই দেখা যাচ্ছে৷ মহিলা, দরিদ্র এবং নিরক্ষর ব্যক্তিদের রাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় থেকে দূরে রাখার জন্য অতীতে তাদের ভোটাধিকার দেওয়া হত না৷ উনবিংশ  শতকে জন স্টুয়ার্ট মিল নিরক্ষর ও নিঃসম্বল মহিলা ও পুরুষদের ভোটদানের বিরোধিতা করেছিলেন৷

১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ শাসিত নিউ জার্সিতে অবিবাহিত ও বিধবা নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করা হলেও, বিবাহিত মহিলাদের কোনও ভোটাধিকার ছিল না৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ নারী পুরুষদের ভোটদানের ক্ষেত্রে ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা৷ ১৯৬৪ সালে বর্ণবৈষম্য বিরোধী আইনে তা দূর করা হয়৷ ১৮৬১ সালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা কিছু শর্তের বিনিময়ে পেয়েছিল ভোটাধিকার৷ ১৮৭১ সালে ফ্রান্সের প্যারি কমিউনে মেয়েরা ভোটাধিকার পেলেও প্যারি কমিউনের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সেই অধিকার চলে যায়৷ ১৯৪৪ সালে ফরাসি মহিলারা পুনরায় ভোটাধিকার পেয়েছিল৷ উনবিংশ শতাব্দীতে প্রথম নিঃশর্ত ভোটাধিকার নারীরা পেয়েছিল নিউজিল্যান্ডে৷ ১৯০৫ সালে ফিনল্যন্ডে মেয়েরা ভোট দেওয়ার এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছিল এবং ১৯০৬ সালে ১৯ জন মহিলা বিশ্বের মধ্যে প্রথম সাংসদ হতে পেরেছিলেন৷

ইংল্যান্ডে ভোটাধিকার আন্দোলন শুরু হয় ১৮৩২ সাল থেকে৷ এই আন্দোলন ছিল রক্তক্ষয়ী৷ সেখানে ১৯২৮ সালে সব মেয়েরা ভোটাধিকার পায়৷ তিরিশের দশকে তুরস্ক, স্পেন, সিংহল, পর্তুগাল প্রভৃতি দেশে এবং চল্লিশের দশকে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, হাঙ্গেরি, সিরিয়া, ইসরাইল ইত্যাদি রাষ্ট্রে এই অধিকার স্বীকৃত হয়৷ ১৯৫০ সালে ভারতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য নিঃশর্ত ভোটাধিকার প্রদত্ত হয়৷  যদিও পরাধীন ভারতে ১৯১৭ সালে আ্যনি বেসান্ত, সরোজিনী নাইডু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ নারীদের ভোটাধিকারের জন্য সরকারের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছিলেন৷ ১৯৬০ সালে মনাকো, মরোক্কো, ইরান, কেনিয়া, রুয়ান্ডা ও ১৯৭০ সালে ইয়েমেন, বাংলাদেশ, এঙ্গোলা, মোজাম্বিক প্রভৃতি দেশের মেয়েরা ভোটদানের অধিকার লাভ করেছে৷ ভোটাধিকারের মাধ্যমে ভোটদাতাদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা, রাজনৈতিক আচরণ প্রতিফলিত হয়৷  ভোটদানে অনীহা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ সেই কারণেই বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের কোটি কোটি মানুষকে ভোটদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২৫ জানুয়ারি দিনটি ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ হিসেবে পালনের সংকল্প গৃহীত হয়েছে৷

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here