কল্লোল প্রামাণিক ● বহরমপুর

এ বঙ্গে এমন কোনও দুয়ার নেই যেখানে পা পড়েনি রাজ্য সরকারের প্রকল্পের! এমনটা প্রায়ই বলে থাকেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার বহরমপুর স্টেডিয়ামের সভামঞ্চ থেকে সেই বিষয়টিই যেন ফের একবার ঝালিয়ে নিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন মঞ্চ থেকে তিনি এক এক করে ছুড়ে দিলেন

—কন্যাশ্রী কে দিয়েছে?

—রূপশ্রী কে দিয়েছে?

—খাদ্যসাথী কে দিয়েছে?

—বিনা পয়সায় রেশন কার্ড কে দিয়েছে?

—স্বাস্থ্যসাথী কে দিচ্ছে?

—ঐক্যশ্রী কে দিয়েছে?

—সবুজসাথী কে দিয়েছে?

—ট্যাব কে দিয়েছে?

—সংখ্যালঘু বৃত্তি কে দিয়েছে?

মমতার প্রতিটি প্রশ্নের শেষে মঞ্চের সামনে থেকে উপস্থিত জনতা গর্জে উঠেছে— তৃণমূল…তৃণমূল…তৃণমূল…

বিধানসভা ভোটের দিন এখনও ঘোষণা হয়নি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন তাঁর প্রায় চল্লিশ মিনিটের বক্তব্যে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিজেপিকে রুখে বাংলায় সরকার গড়াই এই মুহূর্তে তাঁর পাখির চোখ। আর সেই কারণেই তাঁর বক্তব্যের অনেকটা অংশ জুড়েই ছিল সরকারের নানাবিধ প্রকল্পের কথা। বিভিন্ন প্রকল্পের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ করেন মমতা।

মমতা বলেন, ‘‘কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ঐক্যশ্রী থেকে শুরু করে খাদ্যসাথী, সবুজসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, বিনামূল্যে রেশন, বারো ক্লাসের ট্যাব-সহ সংখ্যালঘু বৃত্তির মতো নানা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিপুর, ডোমকল ও সাগরদিঘিতে বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল করা হয়েছে। শস্যবিমায় চাষিদের কোনও টাকা দিতে হয় না। সরকার সেই টাকা দেয়। রাজ্যের কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কারও মৃত্যু হলে দু’লক্ষ করে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কৃষকবন্ধুদের এক একর জমিতে পাঁচ হাজার ও তার কম পরিমাণ জমির জন্য দেড়-দু’হাজার টাকা দেওয়া হত। আগামী জুন মাসে থেকে সেই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ছ’হাজার ও তিন হাজার টাকা করা হয়েছে।’’

এ দিন সভামঞ্চ থেকে মমতা জানান, প্রায় পনেরো লক্ষ মানুষকে বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতা দেওয়া হয়েছে। শারীরিক ভাবে অক্ষম এমন চার লক্ষ মানুষকে মানবিক ভাতা দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিনে দুয়ারে সরকার প্রকল্পে প্রায় আঠারো লক্ষ এবং এই সরকারের সময়ে এক কোটি জাতি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। আশি-নব্বই হাজার সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষা পাচ্ছেন। আড়াইশো মাদ্রাসাকে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত করা হয়েছে। তফসিলি আদিবাসী মানুষ ষাট বছর হলেই মাসে এক হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে ইমাম, মোয়াজ্জিন কিংবা পুরোহিত বা জয় বাংলা, কৃষক পেনশন সবই করা হয়েছে। আগামী দিনে আঠারো বছরে কেউ বিধবা হলে তাঁকেও এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

মমতার সংযোজন, প্রায় দশ কোটি মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধার জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পাবেন। যাঁরা এখনও পাননি তাঁরা পুনরায় দুয়ারে সরকার শিবিরে আবেদন করলে পাবেন। তৃণমূল সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিজের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতার কথা জানান। মমতা বলেন, “কোভিডের সময়ে রাজ্যের একজন পরিযায়ী শ্রমিককে মোদী সরকার এক টাকা দিয়েও সাহায্য করেনি। আমাদের সরকার তিনশো ট্রেনের ভাড়া দিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে এনেছে। বাসে করে লোক আনা হয়েছে। সব আমরা করেছি। ওরা কিছু করেনি।”

মমতা এ দিন বলেন, ‘‘চার লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে ‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্পে এক হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। বহু শ্রমিক রাস্তায় মারা গিয়েছেন। তাঁদের জন্য দয়া হয়নি কেন্দ্রের। মুর্শিদাবাদের ছ’জন শ্রমিক কাশ্মীরে আপেল বাগানে কাজ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। তাঁদের বাড়িতে দেহ পৌঁছে দেওয়া এবং প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লক্ষ করে সাহায্য করেছিল রাজ্য সরকার। কোভিডে এত লোক মারা গেল। রাজ্য সরকার তাঁদের সাহায্য করলেও কেন্দ্র শুধু ভাষণ ছাড়া কিছুই দেয়নি। এত বড় আমপান ঝড় হয়ে গেল। তা-ও কেন্দ্র কিছু দেয়নি।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here