ইন্দ্রাশিস বাগচী ● বহরমপুর

মঙ্গলবার সভা শেষে বহরমপুর সার্কিট হাউসেই রাত কাটিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে দলের নেতাদের সঙ্গে তিনি দেখা করেননি। তবে বুধবার সকালে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে দলনেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বহরমপুর সার্কিট হাউসের সামনে এসেছিলেন দলের প্রথম সারির নেতারা। তবে সেখানেও এ দিন দেখা গেল না জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডলকে (মধু)। বহরমপুরে পরপর দু’দিন দলনেত্রী থাকলেও মধু তাঁর মুখোমুখি না হওয়ায় মধুর দলত্যাগের বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, ‘‘তাঁর সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। কেন আসেননি, সেটা তিনিই বলতে পারবেন।’’ আর জল্পনা উড়িয়ে মধু বলছেন, ‘‘বাবা অসুস্থ থাকায় তাঁকে নিয়ে কলকাতায় যেতে হয়েছিল। সেই জন্য দিদির সভায় যোগ দিতে পারিনি। আর বুধবার দিদি আমাদের কাউকেই ডাকেননি। ফলে আমি সার্কিট হাউস যাইনি।’’ তাঁর দাবি, ‘‘আমি তৃণমূলেই আছি। মিডিয়া ও সমালোচকেরা আমাকে নিয়ে ভিত্তিহীন সমালোচনা করছেন।’’

গত নভেম্বর মাস থেকে মধু দলের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। সেই সময় জেলা পরিষদের প্রয়াত কর্মাধ্যক্ষ মফেজুদ্দিন মণ্ডলের স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। দলের নির্দেশ উপেক্ষা করে দলের ব্যানার ছাড়াই স্মরণসভার আয়োজন করেন মোশারফ। সেই সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালীন বিতর্কিত তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, তার পরের দিনই শাসকদলের ‘নির্দেশে’ জেলা পরিষদের সভাধিপতির নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

মাঝে রাজ্য নেতৃত্ব ও জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরে দলের পাশে থাকার বার্তা দেন মধু। কিন্তু মাসখানেক আগে মুখ্যমন্ত্রী দলের জেলার নেতাদের পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। কিন্তু সেদিনও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মধু মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে না গিয়ে ভিডিয়ো-বৈঠকে যোগ দেন। মঙ্গলবার বহরমপুর স্টেডিয়ামে দলনেত্রীর সভায় অনুপস্থিত ছিলেন মোশারফ। তাঁর দাবি, ‘‘বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কলকাতা যেতে হয়েছিল। তাই দিদির সভায় যেতে পারিনি। গোটা বিষয়টি দলকেও জানিয়েছি।’’

বুধবার সকালে বহরমপুর সার্কিট হাউসে থেকে উত্তরবঙ্গের জনসভায় গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এ দিন সকালে জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান থেকে শুরু করে সুব্রত সাহা, শাহনাজ বেগম, রাজীব হোসেন, সৌমিক হোসেন, আব্দুল মতিন-সহ অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে দেখা যায়নি মোশারফকে!