কল্লোল প্রামাণিক ● করিমপুর

এক একটা দিন বড্ড রঙিন। রবিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি অনেকেই যখন প্রিয়জনের জন্য গোলাপ কিংবা উপহার কিনতে ব্যস্ত, তিনি তখন মুদির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে হাঁক দিচ্ছেন, ‘‘কই গো আর কত দেরি হবে? এ বার অন্তত জিনিসপত্রগুলো দাও। বেলা হয়ে যাচ্ছে। এরপরে পিকনিক কখন হবে?’’

১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পিকনিক বুঝি?

প্রশ্ন শুনে তিনি মিটিমিটি হাসছেন, ‘‘হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। তবে এ পিকনিক গোলাপদের নিয়ে।’’ গোলাপদের নিয়ে মানে? কথার জবাব না দিয়েই গড়িয়ে যায় তাঁর লাল স্কুটি।

রবিবার সকালে করিমপুরের কিসান মান্ডিতে ততক্ষণে টিফিন-পর্ব সাঙ্গ করে খুদের দল রীতিমতো হইহই করে বেড়াচ্ছে। দুপুরে সবাইকে গুছিয়ে নিয়ে বসলেন তিনি। তারপরে পাতে পাতে পৌঁছে গেল ফ্রাইড রাইস, পনির, সাদা ভাত, ভেজডাল, আলুভাজা, মুরগি মাংস, চাটনি, দই, কালাকাঁদ ও রসগোল্লা।

এ দিন করিমপুরের অনাথ আশ্রমের পঞ্চাশ জন শিশু-কিশোরদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন তিনি। আকাশ, সায়ন, রোহিত, শুভদীপদের কথায়, “আজ খুব মজা করেছি। আমাদের কাছে আজকের দিনটা অন্যরকম।” ফের জিজ্ঞাসা করা হল, আপনি যে বলছিলেন গোলাপদের নিয়ে পিকনিক…। ভরসা থাকুক সংস্থার কর্ণধার অর্পণ বন্দ্যোপাধ্যায় ফের হাসছেন, ‘‘ওই যে দেখছেন বাচ্চাগুলো, ওরাই তো আমার গোলাপ। ওরা হেসে উঠলেই তো দিনটা রঙিন হয়ে ওঠে।’’

আশ্রমের হাউস ফাদার দেবানন্দ বিশ্বাস বলছেন, ‘‘অর্পণ এর আগেও আশ্রমের বাচ্চাদের জন্য অনেক করেছেন। অর্পণের মতো আরও অনেক মানুষ এ ভাবে এগিয়ে এলে সমাজের চেহারাটাই বদলে যাবে।’’