কল্লোল প্রামাণিক ● বহরমপুর

প্রতিবন্ধকতা রয়েছে পদে পদে। তবুও সেই বাধা উজিয়েই জেলার মুখ উজ্জ্বল করল ওরা। দু’চোখে স্বপ্ন আর হাতে হকিস্টিক নিয়ে ওরা বলছে, ‘‘হারব না কিছুতেই। হেরে যাওয়া মানেই তো স্বপ্ন শেষ।’’

ওদের একজন রিফা খাতুন, আহিরণের হেমাঙ্গিনী বিদ্যায়তনের নবম শ্রেণির পড়ুয়া। আর স্নেহা দাস জিয়াগঞ্জ সুরেন্দ্র নারায়ণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ওরা দু’জনেই এ বার জাতীয় সাব জুনিয়র মহিলা হকি টুর্নামেন্টের জন্য বাংলা দলে বাছাই-পর্ব শিবিরে ডাক পেয়েছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, হকি বেঙ্গলের ডাকে জুনিয়র ও সাব জুনিয়র বিভাগে বাংলা দলের জন্য বাছাই-শিবিরে মুর্শিদাবাদের মোট আট জন মেয়ে ও চার জন ছেলে যোগ দেয়। তাদের মধ্যে সুযোগ পেয়েছে রিফা ও স্নেহা। তারা এখন কলকাতায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।

মুর্শিদাবাদ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক বিশ্বজিৎ ভাদুড়ী জানান, অনেকদিন আগে বিজয় সাহা, কিশোরীলাল সাউ, আশিস চক্রবর্তী বা অজয় সাহার মতো হকি খেলোয়াড় জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। জেলায় হকি খেলার মতো পরিকাঠামো, বিশেষ করে সমতল মাঠ নেই। তবুও গত কয়েক বছর থেকে আহিরণ, জিয়াগঞ্জ ও বহরমপুরে হকির অনুশীলন চলে।

বিশ্বজিৎ ভাদুড়ীর সংযোজন, ‘‘২০১৮ সালে জেলা স্কুলের নেহরু কাপ হকি টুর্নামেন্টে প্রথম আহিরণ ও জিয়াগঞ্জের ওই দু’টি স্কুল যোগ দেয়। পরে কল্যাণীতেও ওই স্কুল দু’টি জেলার হয়ে খেলেছিল। হাজারো প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ওরা যে ভাবে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছে তা কুর্নিশ করার মতো। এ বার রিফা ও স্নেহা এমন সুযোগ পাওয়ায় জেলার সমস্ত খেলাপ্রেমী মানুষ খুশি হয়েছেন। আগামী দিনে তাদের জাতীয় স্তরে দেখার অপেক্ষায় আছে তামাম জেলা।’’