কল্লোল প্রামাণিক ও শুভদীপ ভট্টাচার্য বহরমপুর

জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল (মধু) ও সহকারী সভাধিপতি বৈদ্যনাথ দাস গত কয়েক মাস থেকেই বেসুরো গাইছেন। শীঘ্রই তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেবেন বলে জল্পনাও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই বৈঠকে সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি উপস্থিত হবেন কিনা সেই প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শুধু দলের কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না এমন নয়, তিনি দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় অনুপস্থিত থাকার সাহস দেখিয়েছেন। ফলে বুধবারের বৈঠকেও জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুপস্থিত থাকবেন বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল জল্পনা জিইয়ে রেখে বলেন, ‘‘বৈঠক হতে এখনও সময় রয়েছে। আপনারা সঠিক সময়ে সব কিছু জানতে পারবেন।’’
অন্যদিকে জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি বৈদ্যনাথ দাস দল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুগত্য দেখিয়েছেন। আর সেই বিষয়ে চেপে ধরার পাশাপাশি জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান বৈদ্যনাথকে বহরমপুরে তাঁর সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে বৈদ্যনাথ আবু তাহেরের সঙ্গে দেখা করেননি। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে তিনি বড়ঞায় বিজেপির সভায় শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে দলবদল করতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি জেলা তৃণমূলের বৈঠকে যোগ দেবেন কিনা তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, গত নভেম্বর মাস থেকে দলের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি। দলের নির্দেশ অমান্য করে দলকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অরাজনৈতিক ব্যানারে কর্মসূচি করতে দেখা গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর বিদ্রোহ পর্বে তাঁকে দিয়ে সভা করানোর কারণে সভাধিপতির নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করে রাজ্য সরকার। এর পরে সভাধিপতি একাধিকবার ‘দলবিরোধী’ কাজ করলেও তৃণমূল ব্যবস্থা নেয়নি। একইভাবে সহকারী সভাধিপতি দলবিরোধী কাজ করলেও তাঁকে সতর্ক করা ছাড়া দল কিছুই করেনি। যদিও মঙ্গলবার বৈদ‌্যনাথের প্রতিক্রিয়া, ‘‘বিজেপিতে এখনই যোগদান করার জন‌্য মনস্থির করিনি। যাঁরা আলোচনা করছেন তাঁরাই এর উত্তর দিতে পারবেন। কাল দলের বৈঠকে আমি যাব।’’
সূত্রের খবর, সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর হাত ধরে পুরনো দলে কংগ্রেসে ফিরতে পারেন। বুধবার দলের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে তা দেখার পরে দলের জেলার সাধারণ সম্পাদকের পদও তিনি ছাড়তে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আবু তাহের খান এ দিন বলেন, ‘‘গত দু’মাস থেকে উনি নিজস্ব কর্মসূচি করছেন। দলীয় ব‌্যানার বা দিদির ছবি সেই সব কর্মসূচিতে ছিল না। সভাধিপতি কী করবেন সেটা তাঁর বিষয়। আর ক’দিনের মধ‌্যে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাতেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here