শুভদীপ ভট্টাচার্য ● বহরমপুর

‘ঘরের’ ছেলে তা হলে ‘ঘরেই’ ফিরছে?
এ প্রশ্নের উত্তরে আর কোনও রাখঢাক নেই। বহিষ্কার হওয়ার পরে জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘আগামী ১৯ তারিখ কংগ্রেসেই যোগ দিচ্ছি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘মানুষ জানে উন্নয়ন কে করেছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আমি নওদা থেকে কংগ্রেসের হয়েই প্রার্থী হব। খেলার স্ট্রাইকারও থাকব আমি। কংগ্রেসের হয়েই লড়ব।
মুর্শিদাবাদের রাজনীতির কারবারিরা জানেন, মোশারফ হোসেন মণ্ডল ওরফে মধু একদা অধীর চৌধুরীর ‘স্নেহধন্য’ ছিলেন। পরে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। তারপরে ভাগীরথী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে।  গুলিয়ে গিয়েছে বহু হিসেব-নিকেশ। রাজনীতির হাওয়ায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল, মধু খুব শিগ্গির তার পুরনো ঘর, কংগ্রেসেই যোগ দিচ্ছেন।
যদিও মধু নিজে একাধিক বার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেই থাকব।’’ তাতে অবশ্য জল্পনা থেমে থাকেনি। কারণ, গত কয়েক মাসে তিনি দলের ব্যানার ও তৃণমূলনেত্রীর ছবি ছাড়াই একের পর এক কর্মসূচি করেছেন। বুধবার জেলা তৃণমূল মধুকে বহিষ্কারের পরেই মধুও বলছেন, ‘‘আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি জুম্মাবার। ওই দিনই আমি কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছি।’’
জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, ‘‘যাঁরা তৃণমূলে থেকে কাজ করতে পারছেন না, তাঁদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলাই আছে। যে মধু তৃণমূলের চোখের মণি ছিল, তিনিই আজ কাঁকড় হয়ে গিয়েছেন। তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছি।’’