শুভদীপ ভট্টাচার্য ● বহরমপুর

তা হলে কি মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ তৃণমূলের হাতছাড়া হতে চলেছে? বুধবার মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে দল থেকে বহিষ্কার করার পরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নটা উঠছে। কারণ, তিনি আর তৃণমূলের থাকলেন না। উল্টে, তিনি পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরছেন। ফলে জেলা পরিষদের ব্যাটন কংগ্রেসের হাতেই যাচ্ছে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্রের খবর পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের আড়াই বছরের মধ্যে সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা যায় না। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ গঠনের আড়াই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে আগামী ২৭ এপ্রিল। ফলে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোশারফই সভাধিপতি থাকছেন। এর মাঝে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হলে নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়ে যাবে। তখন সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে না। ফলে নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত মোশাররফ হোসেন মণ্ডলকে সভাধিপতি পদ থেকে সরানোও যাবে না।
২০১৬ সালে কংগ্রেস পরিচালিত জেলা পরিষদের সদস্যদের ভাঙিয়ে জেলা পরিষদের দখল নেয় তৃণমূল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে অবশ্য তৃণমূলই জয়লাভ করে। তবে তৃণমূলের এক নেতা জানাচ্ছেন, মধুকে সভাধিপতি পদ থেকে সরানোর বিষয়টি আইনি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া সভাধিপতিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও সমস্ত কর্মাধ্যক্ষ, জেলা পরিষদের সদস্য তৃণমূলেই আছেন। ফলে সভাধিপতি এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে পদে পদে তাঁর বাধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডলের দাবি, ‘‘জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ও সদস্যদের প্রায় সকলেই আমার পক্ষে আছেন। সময় মতো তাঁরাও জানান দেবেন যে, ডুবন্ত জাহাজ তৃণমূলে তাঁরাও নেই।’’ তবে জেলা তৃণমূলের এক নেতা জানান, ধ্বনি ভোটে এ দিন সকলেই সভাধিপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। যা শুনে মোশারফ বলছেন, ‘‘এমনটাই তো কথা ছিল।’’
জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান বলছেন, ‘‘দলবিরোধী নানা কাজের জন্য মোশারফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তিনি জেলা পরিষদের সভাধিপতি থাকবেন কিনা সে ব্যাপারে বিভিন্ন আইনি জটিলতা রয়েছে। সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’’ আর জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, ‘‘যা হবে তা সময়ই বলবে। আজ আমি এটুকুই বলতে পারি।’’