নিজস্ব সংবাদদাতা ● জঙ্গিপুর

বুধবার রাতে সাদাকালো-র কাছে একটি ভিডিয়ো এসে পৌঁছিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সপার্ষদ হেঁটে যাচ্ছেন শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। আশপাশ থেকে আওয়াজ উঠছে, ‘‘জাকির হোসেন… জিন্দাবাদ…।’’ আচমকাই একটি বিস্ফোরণ। তারপরেই চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গেল। শোনা গেল আর্তনাদ।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন জাকির হোসেন। বুধবার রাতে নিমতিতা স্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, এ দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জাকির ছিলেন বহরমপুরে।  এ দিন জেলায় দলের কোর কমিটির বৈঠক ছিল। তারপরে তিনি বাড়ি ফিরে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন রাতে কলকাতায় যাওয়ার কথা ছিল মন্ত্রীর। বৃহস্পতিবার কলকাতায় দলের একটি বৈঠকে জাকিরের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সেই মতোই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস ধরার জন্য নিমতিতা স্টেশন যাচ্ছিলেন। তখনই এমন ঘটনা ঘটে। দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। তার আগে এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
জেলা তৃণমূলের সভাপতি আবু তাহের খান বলেন, ‘‘জাকির বড় ব্যবসায়ী। তিনি নানা রকম সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গেও যুক্ত থাকেন। এমনটা কে বা কারা ঘটাল তা পুলিশ সুপারকে দেখতে বলেছি। আমরাও দলীয় ভাবে এর তদন্ত করছি।’’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
তবে ঘটনার পরে উঠে আসছে আরও নানা প্রসঙ্গ। রাজনীতির কারবারিদের একাংশের মতে, এই জেলায় গরু পাচার নিয়ে সরব হয়েছিলেন জাকির। তারপরে গত কয়েক মাসে পাচার নিয়ে এ জেলায় ঘটে গিয়েছে নানা ঘটনা। সেই সূত্র ধরেই এমন ঘটনা কিনা তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও এই ঘটনার পরে তৃণমূলকে বিঁধেছে বিজেপি ও কংগ্রেস। তাদের মতে, এই জেলায় বিরোধীদের উপর আক্রমণ তো আকছার ঘটছে। এখন দেখা যাচ্ছে এ রাজ্যে শাসকদলের মন্ত্রীও নিরাপদ নন।
এ দিন রাতে হরিহরপাড়ার মালোপাড়াতেও এক তৃণমূলকর্মীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি স্থানীয় একশো দিনের কাজের সুপারভাইজার ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, তিনি বাড়ি থেকে দুশো মিটারের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন। তাহাজুদ্দিন মণ্ডল নামে ওই তৃণমূলকর্মীকেও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেই ঘটনারও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।