সুদীপ জোয়ারদার

— ‘বাবা, তুমি বলোনি তো, বাজপাখি নানা ধরনের হয়!’
— ‘ঠিক বুঝলাম না।’
ছেলে খবরের কাগজে আঙুল দিয়ে দেখায় নতুন ধরনের বাজটিকে। বানান করে বাংলা শব্দ পড়তে শিখেছে। খবরের কাগজের হেডিং বানান করে পড়ে আমার অজান্তেই। আজ পড়তে গিয়ে ব্যাটা একে পেয়েছে।
পাখি নিয়ে শিশুদের এমনিতেই কৌতূহল থাকে। আর সে পাখি বাজ বা ঈগল হলে বোধহয় একটু বেশিই উত্তেজিত হয় ওরা।
ছেলে একেবারে এই বাজ নিয়ে পড়ে যায় আমার কাছে
— ‘বাবা, এই বাজেরা কি সাধারণ বাজের মতোই শিকারি? আর এরা কি তেমনই জোরে ছোটে?’
আমি চুপ করে আছি দেখে ছেলে নিজেই কল্পনার ফানুস ওড়ায়
— ‘বাবা, আমার মনে হয় এই বাজ নীচে নামে না  তেমন, আর তেমন শিকারিও নয়। কারণ নাম থেকেই তো বোঝা যাচ্ছে এরা অন্য বাজের তোলা খাবার খেয়ে বাঁচে।’
ওর কল্পনা হয়তো পুরোটা ভুল নয়। তবে এই বাজ শুধু অন্য বাজের নয়, অন্য সকলেরই তোলা খাবার যে খায়, আর এরা যে আরও ভয়ানক শিকারি, ছেলেকে কি তা বলা যায়!
অজয় হোমের ‘বাংলার পাখি’ রয়েছে ছেলের বইয়ের ব্যাগে। বইমেলায় কিনেছিলাম। ছেলে সে বই খুলে এই বাজের ছবিটা দেখে নিতে যায়।
এ বারে না হেসে পারি না। এই বাজদের পাখির বইয়ে কেন, অভিধানেও কি পাওয়া যাবে? সংসদ অভিধান খুলি। নেই। তবে ‘তোলা’র একটা মানে রয়েছে—‘হাট-বাজারের বেপারীদের পণ্যের যে অংশ জমিদার খাজনা বাবদ তুলিয়া লয়।’
বামনদেব চক্রবর্তীর ব্যাকরণ বইয়ে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হিসেবে ‘বাজ’ রয়েছে। কিন্তু সেখানে  মামলাবাজ, ফন্দিবাজ, ফাঁকিবাজ, দাগাবাজ, দাঙ্গাবাজ, গল্পবাজ, মতলববাজ, দাঁওবাজ, যুদ্ধবাজ, এলেমবাজেই থেমে গিয়েছে বাজের ফিরিস্তি। ছেলের বাজপাখি নেই!
অভিধান, ব্যাকরণ আপডেটেড হলে ছেলের সঙ্গে তার বাজপাখির দেখা কি এই সব বইয়েই হয়ে যাবে একদিন?
হয়তো। কিন্তু কিছু কিছু শব্দ যোগে নয়, বিয়োগেই বেশি সুখ। এমনকি দিনটা ভাষাদিবস হলেও!

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)