শুভদীপ ভট্টাচার্য ● বহরমপুর 
ইন্দ্রাশিস বাগচী ● নিমতিতা

নিমতিতা স্টেশনে বোমা বিস্ফোরণের পরে কেটে গিয়েছে ছ’দিন! তারপরেও ধরা পড়েনি কেউ। তদন্তের ‘বহর’ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। সোমবার দুপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী নিমতিতা-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবি তুললেন। তাঁর দাবি, ‘‘নিমতিতার ঘটনায় শাসক দলের লোকজনই জড়িত। আর সেই কারণেই পুলিশ তদন্তে গড়িমসি করছে।” তাঁর সংযোজন, ‘‘কোথায় আমরা বাস করছি! একজন মন্ত্রী জখম হয়েছেন। আরও কিছু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। কয়েকজনের হাত-পা কাটা পড়েছে। রাজ্যে এ কেমন প্রশাসন চলছে, যেখানে শাসকদলের মন্ত্রী আহত হয়েছেন। অথচ এত দিন পরেও তদন্তে কোনও কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না।”
রাজ্যের মন্ত্রীর নিরাপত্তা নেই, সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কতটুকু— এমন প্রশ্ন তুলে শাসক দল ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধীর বলেন, “ঘটনার পরে পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর তরফে দাবি করা হয়েছে, আইইডি ব্যবহার করা হয়েছে। বিস্ফোরণের সঙ্গে রিমোট কন্ট্রোলের যোগ আছে। কেউ বলছে জঙ্গি যোগ আছে। এর যথোপযুক্ত তদন্ত করতে পারে একমাত্র সিবিআই। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এই তদন্ত করার সাধ্য নেই। তাই সিবিআইকে তদন্তভার তুলে দেওয়া হোক। রাজ্য পুলিশের তদন্তে মূল অপরাধীরা আদৌ ধরা পরবে না।”
রবিবার বিকেলে নিমতিতা স্টেশনের দু’নম্বর প্ল্যাটফর্ম পরিদর্শন করেন এডিজি (সিআইডি) অনুজ শর্মা। তবে এ দিনও ধন্দ কাটেনি। কী ভাবে বিস্ফোরক ভর্তি ব্যাগ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এল, কেনই বা রেল পুলিশ সতর্ক ছিল না, কেনই বা প্ল্যাটফর্ম চত্বর অন্ধকার ছিল, এ সব প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি।’’ এডিজি (সিআইডি) অনুজ শর্মা বলেন, “তদন্ত এগোচ্ছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কী জাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনই বলা যাবে না।” জেলা তৃণমূলের অন্যতম কো-অর্ডিনেটর অশোক দাস বলেন, “অধীর চৌধুরী কী বললেন তাতে কিছু যায় আসে না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলছে। অপরাধীরা শাস্তি পাবেই।”

(ফিচার ছবিটি গুগল থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here