কল্লোল প্রামাণিক ● বহরমপুর

শুভেন্দুতে রক্ষা নেই, দোসর হয়েছেন মধু। এক সপ্তাহ আগেও কোনও কর্মসূচিতে না এলেই শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ তকমা দিয়ে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হত। মোশারফ হোসেন মণ্ডল (মধু) কংগ্রেসে যোগ দিতেই পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনও কারণে দলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে না পারলেও মধু ঘনিষ্ঠতার কারণে অনুপস্থিত বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। ফলে দলে থেকেও শাঁখের করাতের মতো অবস্থা হয়েছে তৃণমূলের বেশ কিছু নেতা-কর্মীর। ফলে সব কিছু ফেলে দলের একশো শতাংশ কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে তাঁদের প্রমাণ করতে হচ্ছে— ‘আমি তোমাদেরই লোক!’
রবিবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তড়িঘড়ি জেলা পরিষদের সদস্যদের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বাড়িতে শত কাজ থাকা সত্ত্বেও শুভেন্দু বা মধু ঘনিষ্ঠ তকমা মুছে ফেলতে সোমবারের জেলা পরিষদের বৈঠকে ছুটে এসেছিলেন এক নেতা। তিনি বলছেন, ‘‘এ এক অদ্ভুত পরিস্থিতি! আমি দলেই আছি। অথচ আমাকে শুভেন্দু বা মধু ঘনিষ্ঠ বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। তাই বাড়িতে জরুরি কাজ থাকা সত্ত্বেও এ দিন জেলা পরিষদে এসে আমাকেও প্রমাণ দিতে হয়েছে, দলেই আছি।’’
আর এক নেতার কথায়, ‘‘মধু সভাধিপতি। এখন অবশ্য তিনি তৃণমূলে নেই। কিন্তু তিনি যে তৃণমূ‌লে ছিলেন, সেটা তো মিথ্যে নয়। ফলে তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিক কারণেই ঘনিষ্ঠতা ছিল। তার মানে এই নয় যে, তিনি কংগ্রেসে চলে গেলেন বলে আমাকেও যেতে হবে। অথচ দল তেমনটাই ভাবছে। এই সামান্য বিশ্বাসটুকু যদি দল না করে, তার চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে!’’
গত কয়েক বছর মুর্শিদাবাদ জেলার পর্যবেক্ষক থাকার সুবাদে জেলার বহু নেতার সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিবিড় সম্পর্ক ছিল। শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে দলের কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় ছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সম্প্রতি জেলা পরিষদের সভাধিপতি কংগ্রেসে চলে যাওয়ায় এখন সদস্যদের অনেকের অবস্থা শ্যাম রাখি না কুল রাখির মতো অবস্থা। পারিবারিক বা ব্যক্তিগত অসুবিধা শিকেয় তুলে বৈঠকে তাঁদের আসতেই হচ্ছে। তাঁরা কেউ কেউ বলছেন, ‘‘না এলে দল ভাববে হয় মধুর সঙ্গে আছি, নইলে শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমাদের অবস্থা এখন শাঁখের করাতের মতো।’’

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here