নিজস্ব সংবাদদাতা  ● বহরমপুর

বহরমপুর পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হল পুরসভারই প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তৃণমূলের জয়ন্ত প্রামাণিককে। এতদিন পর্যন্ত বহরমপুর পুরসভার দায়িত্ব সামলাতেন বহরমপুরের সদর মহকুমাশাসক। সোমবার রাতে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পরেই মঙ্গলবার সকালে সদর মহকুমাশাসক প্রভাত চট্টোপাধ্যায় জয়ন্ত প্রামাণিকের হাতে দায়িত্ব তুলে দেন। তবে শাসকদলের নেতাকে পুরসভার প্রশাসক করা নিয়ে তরজা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কে জয়ন্ত প্রামাণিক?
সূত্রের খবর, ১৯৯০ সাল থেকে টানা চার বারের বহরমপুরের কাউন্সিলর ছিলেন জয়ন্ত প্রামাণিক। প্রথমে কংগ্রেসে থাকলেও ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। এরপরে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বহরমপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন জয়ন্ত প্রামাণিক। সেই সময় বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন নীলরতন আঢ্য। পরে বহরমপুর পুরসভার দায়িত্ব চলে যায় বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হাতে। তখন থেকেই বহরমপুর পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাতেন বহরমপুরের সদর মহকুমাশাসক। বুধবার বহরমপুর পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান জয়ন্ত প্রামাণিককেই পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আর দায়িত্ব পেয়েই এ দিন বহরমপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীলরতন আঢ্যের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন জয়ন্ত প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘‘নীলরতন আঢ্য আমাদের দলের কোনও সদস্য বলে জানা নেই। ফলে ওঁকে নিয়ে কিছু ভাবছি না। রাজ্য সরকারকে আমাকে মনোনীত করেছে। মানুষের জন্য কাজ করার একাধিক পরিকল্পনা আছে। একে একে সেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করব।’’ দায়িত্ব পেয়েই শহরের একাধিক গঠনমূলক কাজের আশ্বাস দেন জয়ন্ত। তিনি বলেন, ‘‘বহরমপুর পুরসভার যানজট থেকে শুরু করে নিকাশি নালার সমস্যা রয়েছে। এই সময় ডেঙ্গি নিয়েও পুরসভার পক্ষ থেকে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
এ দিন জয়ন্তের মন্তব্য শুনে বহরমপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীলরতন আঢ্য বলেন, ‘‘কে কী বলল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি তৃণমূলে ছিলাম, এবং এখনও পর্যন্ত তৃণমূলেই আছি। রাজ্য সরকার যাকে ভরসা করেছে, তার উপরেই দায়িত্ব দিয়েছে। এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’’
তবে শাসকদলের এই দ্বন্দ্বকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন জেলা কংগ্রেস ও বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, ‘‘তৃণমূল নিজেই জানে না তাদের দলে কে আছে, আর কে নেই। ফলে পুরসভার প্রশাসক কাকে করা হচ্ছে, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মাথাব্যথা নেই। ক্ষমতা থাকলে মুখ্যমন্ত্রী পুরভোট করে দেখান। তার পরে দেখব পুরসভার দায়িত্ব কার হাতে থাকে।’’
জেলা বিজেপির সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘শাসকদলের কাউন্সিলরকে পুরসভার প্রশাসক করা হচ্ছে। পুরসভায় কে প্রশাসক হচ্ছে, তা নিয়ে ভাবছি না। আগামীতে আমরাই পুরসভা দখল করব।’’ আর তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, ‘‘যাঁরা জেগে দিবাস্বপ্ন দেখেন, তাঁদের নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here