নিজস্ব সংবাদদাতা ● বহরমপুর
জোটের মূল শর্ত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির সঙ্গেই জোট হচ্ছে। এ বিষয়ে যাঁরা বিভ্রান্ত হয়ে দলীয় স্তরে আলোচনা না করে টুইটারে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করছেন তাঁরা তৃণমূল ও বিজেপির হাত শক্ত করছেন। বুধবার বহরমপুরে জেলা কংগ্রেসের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।
জোটের আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। সূত্রের খবর, কংগ্রেস লড়বে ৯২টি আসনে ও বাকি ২০২ আসনে লড়বে বামফ্রন্ট এবং তার সহযোগী দল ও আইএসএফ। তবে ব্রিগেডের সভামঞ্চেই কিঞ্চিৎ ছন্দপতন হয়েছিল। আব্বাসের মঞ্চে আসা থেকে শুরু করে আব্বাসের বক্তৃতা পর্ব পর্যন্ত ঘটনাকাল জোট-জটের জল্পনাকে উস্কে দিয়েছিল। বাম ও কংগ্রেসের একাংশ জোটে আব্বাসের অংশগ্রহণ নিয়েও নানা মতামত দিয়েছেন সামাজিক মাধ‌্যমে।
মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা টুইট করে বলেন, ‘‘আইএসএফ বা এই জাতীয় দলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট দলের মূল দৃষ্টিভঙ্গির পরিপন্থী। কংগ্রেসের আত্মা গাঁধীবাদ এবং নেহরুপন্থী ধর্মনিরপেক্ষতারও বিরুদ্ধ অবস্থান এই জোটের। এ বিষয়ে কংগ্রেসের অভ‌্যন্তরে ব‌্যাপক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন ছিল।” এই টুইটের পরেই সমালোচনার ঝড় ওঠে কংগ্রেসের অভ‌্যন্তরে ও বিরোধী শিবিরে। বুধবার জেলা কার্যালয় থেকে অধীর চৌধুরী জানান, যিনি এ ভাবে টুইট করেছেন তিনি সৎ উদ্দেশ‌্য নিয়ে করেননি। এতে বিজেপি ও তৃণমূলই লাভবান হবে।
অধীর বলেন, “২০১৬ সালে জোট হয় বাম-কংগ্রেসের। ২০২১ সালে জোট প্রক্রিয়া আরও পাকাপোক্ত হয়। এ রাজ‌্যে সাম্প্রদায়িক দল বিজেপি, স্বৈরতান্ত্রিক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সকল ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির লড়াই। আরজেডি এবং এনসিপি-র মতো দলগুলির কাছেও বামেরা আবেদন জানিয়েছিল। সেই প্রক্রিয়াতেই আইএসএফ জোটের অন্তভুর্ক্ত হয়েছে।”
আইএসএফ প্রসঙ্গে অধীরের বক্তব‌্য, “দলটির নাম ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। তাতে মুসলমান আছে, আদিবাসী আছে, দলিতও আছে। জোটের অবস্থানে তাঁরা ধর্মনিরপেক্ষ। সাম্প্রদায়িকতার কথা বললে আমরা তাঁদের প্রত‌্যাখান করব।” আনন্দ শর্মার টুইট প্রসঙ্গে অধীর বলেন, “আনন্দ শর্মার সঙ্গে আমি একমত নই। ওঁর উচিত ছিল, আমাকে জানানো। আমার সঙ্গে আলোচনা করা। তা না করেই উনি টুইটারে ব‌্যক্তিগত মতপ্রকাশ করে বাংলায় বিজেপি বা তৃণমূলেরই সুবিধা করে দিচ্ছেন। যাঁরা এ রকম বলছেন তাঁরা সঙ্কীর্ণ ভাবে ভাবছেন।”