শুভদীপ ভট্টাচার্য ● বহরমপুর

প্রার্থী ঘোষণার ঠিক আগের দিন শহর তৃণমূলের সভাপতি নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের আহ্বানে সভা। বৃহস্পতিবার বহরমপুর দশমুণ্ডু কালীবাড়ির মাঠের সেই সভায় ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরের ২৮টি ওয়ার্ড থেকেই প্রচুর মানুষ এসেছিলেন। তারপরেই তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, ‘‘নাড়ুগোপাল দেখিয়ে দিলেন তিনি কতটা যোগ্য। এখন তাঁর টিকিট পাওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।’’
কে হচ্ছেন বহরমপুরের প্রার্থী, তা নিয়ে গত কয়েকদিন থেকেই জল্পনা চলছে দলের অন্দরে। দলের তরফে জানানো হয়েছিল, জনসংযোগে এগিয়ে থাকা নেতাই টিকিট পাবেন। সেই সঙ্গে দলের এক নেতা ধরিয়ে দিয়েছেন, ‘‘তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ জেলা নেতাদের একাংশ কবুল করছেন, ‘‘প্রার্থী ঘোষণার একদিন আগে নিজের ক্ষমতা জাহির করে নম্বর বাড়িয়ে নিলেন নাড়ুগোপাল।’’
যদিও নাড়ুগোপালের বক্তব্য, ‘‘বিধানসভা ভোটের আগে এটা প্রস্তুতি সভা। আগামীদিনে আরও বড় সভা হবে। সর্বস্তরের কর্মীদের মাঠে নামানোর উদ্দেশ‌্যেই এই জনসভা। এর সঙ্গে প্রার্থী হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। আমি তো মমতা বন্দ‌্যোপাধ‌্যায়ের সৈনিক। ফলে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটাই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।”
তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবু তাহের খান বলেন, ‘‘’বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’— কর্মসূচিকে সামনে রেখেই এই সভা। আমাদের মধ‌্যে যে কোনও বিরোধ নেই এই সভা থেকে সেটাই প্রমাণিত হল। আগামী দিনে মুর্শিদাবাদের সব আসন তৃণমূলের জন‌্য নিশ্চিত করতে একজোট হয়ে লড়ার বার্তা দিতেই এই সভা করা হয়েছে।” যা শুনে বিরোধীদের কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূল দিবাস্বপ্ন দেখছে। ভোটের ফল প্রকাশের পরেই সকলেই দেখতে পাবেন, কোন দলের ক’টা আসন!’’