নিজস্ব সংবাদদাতা ● বহরমপুর

দলের জেলা কমিটিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক মহিলা নেত্রী-কর্মীকে রাখা হয়নি। সদ্য ঘোষিত দলের প্রার্থী তালিকাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকাতেও বঞ্চনা করা হয়েছে নারীদের। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচি শেষে এমনই অভিযোগ তুলে দলের জেলা সভাপতিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন মহিলা তৃণমূলের কর্মীরা। আর এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে।
সোমবার দুপুরে বহরমপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটি মিছিল করে মহিলা তৃণমূল। পরে টেক্সটাইল মোড় থেকে অবস্থান বিক্ষোভ শেষে মহিলা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা হাজির হন জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে। সেখানে তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবু তাহের খানকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান মহিলা তৃণমূলের নেত্রীরা। তাঁরা দাবি করেন, শাহনাজ বেগমকে প্রার্থী করতে হবে।
দলের জেলা সভাপতি আবু তাহের খান বলেন, “ওঁদের ক্ষোভ যুক্তিসঙ্গত। দলনেত্রী মেয়েদের সামনে রেখে লড়াইয়ের কথা বলেছিলেন। কিন্তু জেলায় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হয়েছে। ওঁরা দলের কাছে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। আমরা সেগুলি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি।” ক্ষোভের প্রভাব কি ভোটব্যাঙ্কেও পড়বে? আবু তাহের খান বলেন, “ওঁরা সকলেই দলের কর্মী। তাঁদের নেত্রী টিকিট পাননি। তাই দলের কাছেই জানিয়েছেন। এর কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে না।”
মহিলা তৃণমূলের এক নেত্রী জানান, দলের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা। কিন্তু এই জেলায় প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মহিলাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। শাহনাজের ঘনিষ্ঠ এক নেত্রী বলেন, “আমাদের দাবি ছিল জেলা থেকে অন্তত সাত জনকে মহিলা প্রার্থী করা হোক। কিন্তু সে দাবি মানা হয়নি। একইসঙ্গে পঞ্চায়েত বা জেলা পরিষদের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে, অরাজনৈতিক মহিলাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেকেই পঞ্চায়েত বা জেলা পরিষদে জিতে আসার পরেও কেবল মাত্র মিটিং আর হাতে গোনা কিছু কর্মসূচি ছাড়া তাঁদের দেখতেও পাওয়া যায়না। অনেক ক্ষেত্রেই কাজ গুলো করেন তাঁদের স্বামীরা।’’ তাঁর দাবি, ‘‘কেবল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার জন্যই অনেকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী করিয়ে দেন তাঁর স্ত্রীকে। নারী দিবসে এই অবস্থারও পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি। মাঠে নেমে যে সব মহিলা রাজনীতি করেন তাঁদের প্রার্থী করা হোক।”
বিধানসভা ভোটের দামামা বাজার পর থেকেই নানা মহলে জল্পনা ছিল প্রার্থী তালিকা নিয়ে। শাহনাজ বেগম ভরতপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এমন জল্পনাও চলছিল তৃণমূলের অন্দরে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। জল্পনায় উঠে আসা অনেক নামই বাদ পড়ে প্রার্থী তালিকা থেকে। বাদ যায় শাহনাজের নামও। এরপর থেকেই তৃণমূলের টিকিট না পাওয়া প্রার্থীদের অভ্যন্তরে জমতে থাকে ক্ষোভ।
যদিও শাহনাজের দাবি, “প্রার্থী তালিকায় আমার নাম নেই জানতে পেরে বিভিন্ন ব্লকের মহিলা নেত্রীরা ক্ষুব্ধ হন। সোমবার সংগঠনের নেত্রী ও কর্মীরা জেলা নেতৃত্বকে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। তবে সামনে ভোট। সমস্ত অসন্তোষ মিটিয়ে ওঁদের ভোটের কাজে আমরা নামাব। দলনেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলার মসনদে বসানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।”