শুভদীপ ভট্টাচার্য ● বহরমপুর

বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল-দুর্গে ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মইদুল ইসলাম রীতিমতো সভা করে তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিলেন। এ দিনই সাগরদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মেহবুব আলম তৃণমূল ছেড়ে মিম-এ যোগ দিলেন।
সুতির বাসিন্দা মইদুল এ দিন দলত্যাগ করার পরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুতির তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক ইমানি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। মইদুলের অভিযোগ, ‘‘ইমানি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরে একাধিক কর্মীর ক্ষোভ রয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির যে ভূমিকা থাকা দরকার তার কোনও বহিঃপ্রকাশ ওঁর কর্মকাণ্ডে নেই। বিগত দিনে দলীয় ক্ষমতায় থাকার সময়ে তিনি ক্ষমতার নানা অপব্যবহার করেছেন। ইমানি প্রার্থী হওয়ায় সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবে না। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। তাই সাধারণ মানুষের রায় মেনেই তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছি।”
এ দিন প্রতিক্রিয়া জানতে ইমানি বিশ্বাসকে একাধিক বার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। উত্তর দেননি এসএমএসেরও। আর মিমে যোগ দিয়ে মেহবুব আলম বলছেন, ‘‘দলের মধ্যে কাজের পরিসর ক্রমেই কমছিল। তাছাড়া তৃণমূলের অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। আমার পক্ষে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই মানুষের কাজ করব বলে মিমে যোগ দিলাম।’’ জেলা তৃণমূলের সভাপতি আবু তাহের খান বলেন, “যাঁরা দল ছাড়ছেন তাঁরা আসলে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী। শুভেন্দুর দেখানো পথেই ওঁরা হাঁটছেন। মানুষ ওঁদের প্রত্যাখ্যান করেই জবাব দেবে।”
মিম-এর জেলা নেতা আশাদুল শেখের বক্তব্য, ‘‘তৃণমূল এখন বিজেপিকে লোক সরবরাহ করছে। বিজেপির বিপদ থেকে যাঁরা বাঁচতে চাইছেন তাঁরা আমাদের দলে যোগ দিচ্ছেন।’’ সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে পুরনো দল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল (মধু)। এ দিন মইদুলের দলত্যাগ প্রসঙ্গে মোশারফ বলেন, ‘‘খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ দিয়ে শুরু হল। আরও অনেকেই পা বাড়িয়ে আছেন। তাঁদের দলত্যাগ করা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তৃণমূল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।’’ যা শুনে তৃণমূলের এক জেলা নেতা বলছেন, ‘‘ওঁরা এখন দিবাস্বপ্ন দেখছেন। মানুষ তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন।’’
মইদুল ইসলামের কথায়, “এখনই অন্য দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে জাতীয় কংগ্রেস যদি অনুমোদন করে তবে আমরা কংগ্রেসে যোগ দেব।” জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষ মন নিয়ে কংগ্রেসের হাত যাঁরা শক্তিশালী করতে চাইছেন তাঁদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা আছে।”