সারথি বিশ্বাস

বরাবরই আমি যাত্রাপ্রেমী। ছোটবেলায় মঞ্চের এক্কেবারে সামনে বসে অনেক যাত্রাপালা দেখেছি। যেমন ধরুন, ‘বাবলির বাবা কি শুধু পথের কাঁটা’। বাবা থাকবে, আর মা থাকবে না, তাই কি হয়? মা-ও ছিল। ‘মা নয়, রাক্ষসী’, ‘মা বিক্রির মামলা’। মা থাকলে মাটিও থাকবে, মাটির ঘরে ম্যাডোনা। মাটি থাকলে চাষিও থাকে, ‘চাষির ছেলে চাঁদকুমার’। ছিল ‘ভক্ত প্রহ্লাদ’। ভক্ত থাকলে ভগবানও সর্বদা সর্বত্র বিরাজমান, ‘নরনারায়ণ’। ভক্ত আর ভগবানের মতো আর একটা জরুরি জিনিসও ছিল, পয়সা। যদিও ‘অচল পয়সা’।
এখন আর যাত্রার যুগ নেই বলছেন? এখন আর ‘অচল পয়সা’ চলে না বলছেন?  আরে, পয়সা কী, এখন তো বড় বড় নোটও রাতারাতি অচল হয়ে যায় ! আর, মানুষ ঘুমের ঘোরে পাখি হয়ে যায়, অবশ্যই বিনা পাখায়, তা-ও আবার  পরিযায়ী! আর যাত্রা? হ্যাঁ, করোনা এসে যাত্রার মাচা অনেকটা নড়বড়ে করে দিয়েছে ঠিকই, তবে বন্ধ করতে পারেনি। এখন পরিবর্তন যাত্রা আর জনসমর্থন যাত্রা তো বেশ জনপ্রিয়।
যাত্রার প্রতি প্রেম আজও আমার এতটকুও কমেনি। ছোটবেলায় রাত জেগে যাত্রা দেখে সকালে পড়ার চেয়ে ঢুলতাম বেশি, স্কুলে গিয়ে মাস্টারমশাইয়ের হাতে মার খেতাম, তখন যাত্রায় দেখা সব স্বপ্নগুলো হয়ে যেত স্বপ্নে বিলীন। যাত্রাভক্ত শুধু আমিই পড়ে থাকতাম মাটির দাওয়ায়।
আজকে তাই পরিবর্তন যাত্রা, আর জনসমর্থন যাত্রা দেখতে দেখতে ভাবছি, লক্ষ্মী বড্ড ডানঘেঁষা! না, মানে, সবসময় মা দুর্গার ডান দিকে বসেন কিনা! তবে ওঁকে কী ভরসা! উনি তো চির চঞ্চলা। এদিকে-ওদিকে নড়ানড়ি, ডানে-বামে, কখনও মাঝখানে ঘোরাঘুরি তাঁর তো বাঁ হাতের খেল।
আমি গরিব। আমি বামপন্থী। আরে না, কাস্তে-হাতুড়ি-তারা নয়, আমাদের হৃদয় বাঁ দিকেই থাকে কিনা, তাই!

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)