নিজস্ব সংবাদদাতা ● বহরমপুর

মুর্শিদাবাদে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। দৈনিক ২০০-২৫০ জন করে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। সেই সঙ্গে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, গত শুক্রবার সকাল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত বহরমপুরে মাতৃসদন করোনা হাসপাতালে ১৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যার জেরে জেলায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একদিকে করোনা সংক্রমণ ও করোনায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে, অন্যদিকে করোনার প্রতিষেধেকের হাহাকার লেগেছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। এই পরিস্থিতিতে করোনা সুরক্ষাবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘গত বছরের তুলনায় করোনা আরও বেশি শক্তি নিয়ে ফিরে এসেছে। করোনা সংক্রমণের হার গত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। এই পরিস্থিতি করোনা সুরক্ষাবিধি মেনে চলা জরুরি।’’
জিয়াগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক আবু তাহের বলেন, ‘‘বাইরে বেরোলোই মাস্ক পরতে হবে। ঘন ঘন হাত স্যানিটাইজ করতে হবে। এছাড়া যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে হবে। এ সব বিষয়কে অভ্যসে পরিণত করতে হবে। তবেই করোনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।’’
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ ৩০ হাজার জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহ থেকে টিকার হাহাকার লেগেছে মুর্শিদাবাদে। যেখানে দিন ৩০ হাজারের উপরে করোনার টিকা দেওয়ার পরিকাঠামো আছে। সেখানে গত সাত দিনে মাত্র ৪০ হাজার টিকা এসেছে। ফলে টিকা না পেয়ে লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যেখানে জেলাজুড়ে ২৫০টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়, সেখানে শুধুমাত্র শহরাঞ্চলে টিকা কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানান, পর্যাপ্ত টিকা এলে সব টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে টিকার ঘাটতির দায় কেন্দ্রের উপরে চাপিয়েছে তৃণমূল। রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবু তাহের খান বলেন, ‘‘জেলাজুড়ে টিকা নিয়ে হাহাকার চলছে। সেই টিকা কেন্দ্র সরকার রাজ্যে না পাঠিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা না নিয়ে ভোট প্রচারে ব্যস্ত। আমরা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’
যদিও বিজেপির নেতা শাখারভ সরকার বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারত সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে বড় কাজ করছে। যা বিদেশেও প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল ভোটের বাজার গরম করতে মিথ্যা কথা বলছে।’’

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)