দেবপ্রসাদ সান্যাল ● করিমপুর

—‘জানিস তো, মিঠুন আসছে!’
—‘শুনছি সোহম-সায়ন্তিকাও আসবে!’
—‘বাদশা মৈত্রেরও তো আসার কথা।’
গ্রামে গ্রামে এমনই সব বার্তা রটছিল ক’দিন থেকেই। গত শনিবার বিজেপি প্রার্থীর হয়ে করিমপুর জগন্নাথ স্কুলের মাঠে এসেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সব ডায়ালগ তাঁকে বলতেও হয়নি। অর্ধেক বলে, অর্ধেক ইশারাতেই বাজিমাত করেছেন তিনি। সোমবার করিমপুরের তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে নতিডাঙা মোড় থেকে নাটনা মোড় পর্যন্ত রোড শো করলেন সোহম-সায়ন্তিকা। রাস্তার দু’ধারে উপচে পড়ছে ভিড়।এ দিনই সিপিএম প্রার্থীর হয়ে নতিডাঙা মোড়ে পথসভা করলেন বাদশা মৈত্রও। বাদশাও লোক টেনেছেন বেশ।
আসলে ভোট এলেই ওঁরা আসেন। ওঁরা মানে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সাধারণত যাঁদের দেখা যায় সিনেমা, সিরিয়ালে। আর দেখা যায় যাত্রা কিংবা নাইট-উৎসবে। সেই তারার দল ভোট এলেই রোদ-গরম উপেক্ষা করেই হাজির হন জনতার দরবারে। তাঁরা হাত নাড়েন, হাসেন। কেউ কেউ ছুড়ে দেন দু’চারটে ‘হিট’ ডায়ালগ। কেউ আবার গেয়ে ফেলেন দু’-এক কলি গান। পাবলিক খুশি। নেতারাও স্বস্তির শ্বাস ফেলেন।
এ ভাবেই তারাদের ভিড়ে জমে ওঠে ভোট উৎসব। তাঁরা ফিরে যাওয়ার পরেও সীমান্তে চর্চা চলে বেশ কিছুদিন
—‘ভাবিস না, মিঠুনের সভায় ভিড় হয়েছিল মানেই বিজেপির ভোটবাক্সেও এমন ভিড় হবে।’
—‘তা কেন, এ বার হাওয়া কিন্তু…’
—‘রাখ তোদের হাওয়া। হাওয়া মানে এখনও হাওয়াই চটি। মিলিয়ে নিস। সোহম-সায়ন্তিকার রোড শো-য়ে কী বুঝলি?’
—‘তবে ভাই, বাদশা বাদশা। ডাউন টু আর্থ। রাজনৈতিক জ্ঞানগম্যি রয়েছে।’
গমগম করে চায়ের আড্ডা। ক্রমশ ভারী হয়ে ওঠে ভোটের বাতাস!