কল্লোল প্রামাণিক ● বহরমপুর

ফের করোনায় মৃত্যু হল চার জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় বহরমপুর মাতৃসদন করোনা হাসপাতালে ওই চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে গত চার দিনে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে মোট ২০ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হল।
অন্য দিকে, করোনা সংক্রমণও হু হু করে বাড়ছে। মঙ্গলবার গোটা জেলা জুড়ে ৩৮৯ জনের করোনা ধরা পড়েছে। সংক্রমণের নিরিখে এটাই এখনও পর্যন্ত জেলার সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার জন। এ দিন, করোনা অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। করোনা হাসপাতালগুলিতে রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর করোনা সংক্রমণের হার অনেক বেশি। মৃত্যুর হারও বেশি। এ দিকে, চাহিদা মতো মিলছে না টিকাও। ভোট প্রচারে মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদে এসে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী করোনার ৬৪ শতাংশ ওষুধ বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ এখানে মরে গেলেও ওষুধ পাব না। আমি বারবার বলেছি, ওষুধ পাচ্ছি না। কাল প্রধানমন্ত্রী বললেন, এখন খোলা বাজারে ওষুধ পাওয়া যাবে। কিন্তু খোলা বাজারে ওষুধটা কোথায়? নিজের দেশের কথা চিন্তা না করে সব তো পাঠিয়ে দিয়েছ বিদেশে। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, রাজস্থান বাংলা ওষুধ পাচ্ছে না।’’
জেলার বিভিন্ন এলাকার টিকাকেন্দ্র থেকে বহু লোক টিকা না পেয়ে ফিরে আসছেন। এমনকি, টিকার দ্বিতীয় ডোজ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তবে, জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত টিকা এলেই সর্বত্র তা দেওয়া হবে। আর শুধুমাত্র টিকা নিলেই যে করোনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, এমনটা নয়। টিকা নিলেও নিয়মিত মাস্ক পরতে হবে, শারীরির দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, নিয়মিত স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। তবেই করোনার হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
তবে বাস্তবে লোকজনের একাংশ করোনার সুরক্ষাবিধি মানছেন না। হাসপাতাল, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, বাজার, চায়ের দোকান, নির্বাচনী প্রচার সভায় বহু লোকজনকেই মাস্ক পরতে দেখা যাচ্ছে না। কেউ মাস্ক নিয়ে বেরোলেই তা ঝুলছে গলায় বা থুতনির নীচে। প্রশ্ন উঠছে, এরপরেও আর কবে হুঁশ ফিরবে?

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)