সৈকত রানা

একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার বাড়িতে আশির দশকে কেনা সাদাকালো টেলিভিশনটি এখন কোথায়? কিংবা আপনার জীবনে কেনা প্রথম মোবাইল ফোনটি এই মুহূর্তে ঠিক কোথায় রয়েছে?

শুধু মোবাইল বা টেলিভিশন নয়, পুরোনো কিংবা বিকল হয়ে গেলে বাড়ির সব ইলেক্ট্রনিক জিনিসই ফেলে দেওয়া হয়, অথবা পুরোনো জিনিস কিনতে আসা ফেরিওয়ালাদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পুরোনো জিনিস মেরামত করে আরও বেশ কিছুদিন চালানো গেলেও একসময় আবর্জনা হিসাবে ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনও গত্যন্তরও থাকে না।

এ ধরণের আবর্জনাকে বলা হয় ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য বা সংক্ষেপে ই-বর্জ্য। এক কথায়, ই-বর্জ্যের তালিকায় রয়েছে ফেলে দেওয়া রেডিয়ো, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, মোবাইল, টেলিভিশন, ফ্রিজ, ক্যামেরা, প্রিন্টার-সহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম।

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও এখন নানা ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যের ভিড়। আজকে যা নতুন, কালই তা হয়ে যাচ্ছে পুরোনো। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে ই-বর্জ্য। এই ই-বর্জ্যে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ যেমন লেড, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, বেরিলিয়াম, এন্টিমনি, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি), মার্কারি বা পারদ, পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল (পিসিবি) ইত্যাদি কিন্তু মাটি, জল ও বাতাসের সঙ্গে মিশে মানুষের জন্য এক বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করে। বিশেষত যাঁরা এগুলো সংগ্রহ ও ভাঙাচোরা করেন তাঁদেরও স্নায়ু, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, যকৃত-সহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়।

বছরে ২০ লক্ষ টন ই-বর্জ্য তৈরি হয় ভারতে। ই-বর্জ্য তৈরিতে ভারতের স্থান বিশ্বে পঞ্চম। তার মধ্যে মাত্র ৪.৩৮ লক্ষ টন সঠিক পদ্ধতিতে ‘রিসাইকল’ বা পুনর্ব্যবহার করা হয় । ভারতের মোট ই-বর্জ্যের ৯.৮ শতাংশ তৈরি হচ্ছে এ রাজ্যে। কিন্তু দুঃখের বিষয় পশ্চিমবঙ্গে নেই একটিও সংগঠিত ‘রিসাইক্লিং’কেন্দ্র। এখানকার ই-বর্জ্যের পুরোটাই পৌঁছে যায় অসংগঠিত ক্ষেত্রে। সেখানে কোনও রকম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই ই-বর্জ্য থেকে ব্যবহারযোগ্য জিনিস পৃথক করা হয়।

দেরাদুনের ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এনার্জি স্টাডিজের সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে বাড়ছে ই-বর্জ্য। অন্যদেশেও চিত্রটা সুখকর নয়।

এ রকম চলতে থাকলে, সে দিন আর বেশি দূরে নেই, যখন ইলেক্ট্রনিক্স জঞ্জালে ঢেকে যাবে ভূপৃষ্ঠের অনেকটাই। ২০০৮ সালের চলচ্চিত্র “ওয়াল-ই তে যেমনটা দেখানো হয়েছিল।

একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার বাড়িতে আশির দশকে কেনা সাদাকালো টেলিভিশনটি এখন কোথায়? কিংবা আপনার জীবনে কেনা প্রথম মোবাইল ফোনটি এই মুহূর্তে ঠিক কোথায় রয়েছে?

শুধু মোবাইল বা টেলিভিশন নয়, পুরোনো কিংবা বিকল হয়ে গেলে বাড়ির সব ইলেক্ট্রনিক জিনিসই ফেলে দেওয়া হয়, অথবা পুরোনো জিনিস কিনতে আসা ফেরিওয়ালাদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পুরোনো জিনিস মেরামত করে আরও বেশ কিছুদিন চালানো গেলেও একসময় আবর্জনা হিসাবে ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনও গত্যন্তরও থাকে না।

এ ধরণের আবর্জনাকে বলা হয় ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য বা সংক্ষেপে ই-বর্জ্য। এক কথায়, ই-বর্জ্যের তালিকায় রয়েছে ফেলে দেওয়া রেডিয়ো, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, মোবাইল, টেলিভিশন, ফ্রিজ, ক্যামেরা, প্রিন্টার-সহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম।

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও এখন নানা ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যের ভিড়। আজকে যা নতুন, কালই তা হয়ে যাচ্ছে পুরোনো। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে ই-বর্জ্য। এই ই-বর্জ্যে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ যেমন লেড, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, বেরিলিয়াম, এন্টিমনি, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি), মার্কারি বা পারদ, পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল (পিসিবি) ইত্যাদি কিন্তু মাটি, জল ও বাতাসের সঙ্গে মিশে মানুষের জন্য এক বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করে। বিশেষত যাঁরা এগুলো সংগ্রহ ও ভাঙাচোরা করেন তাঁদেরও স্নায়ু, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, যকৃত-সহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়।

বছরে ২০ লক্ষ টন ই-বর্জ্য তৈরি হয় ভারতে। ই-বর্জ্য তৈরিতে ভারতের স্থান বিশ্বে পঞ্চম। তার মধ্যে মাত্র ৪.৩৮ লক্ষ টন সঠিক পদ্ধতিতে ‘রিসাইকল’ বা পুনর্ব্যবহার করা হয় । ভারতের মোট ই-বর্জ্যের ৯.৮ শতাংশ তৈরি হচ্ছে এ রাজ্যে। কিন্তু দুঃখের বিষয় পশ্চিমবঙ্গে নেই একটিও সংগঠিত ‘রিসাইক্লিং’কেন্দ্র। এখানকার ই-বর্জ্যের পুরোটাই পৌঁছে যায় অসংগঠিত ক্ষেত্রে। সেখানে কোনও রকম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই ই-বর্জ্য থেকে ব্যবহারযোগ্য জিনিস পৃথক করা হয়।

দেরাদুনের ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এনার্জি স্টাডিজের সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর ২৫ শতাংশ হারে বাড়ছে ই-বর্জ্য। অন্যদেশেও চিত্রটা সুখকর নয়।

এ রকম চলতে থাকলে, সে দিন আর বেশি দূরে নেই, যখন ইলেক্ট্রনিক্স জঞ্জালে ঢেকে যাবে ভূপৃষ্ঠের অনেকটাই। ২০০৮ সালের চলচ্চিত্র “ওয়াল-ই তে যেমনটা দেখানো হয়েছিল।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন সারা পৃথিবীর কাছে একটা বড় ভাবনার বিষয়। কারণ, যতই উন্নত প্রযুক্তি আসুক না কেন, সেটা অর্জন করতে গিয়ে আমাদের বাসস্থান এই পৃথিবী একবারে বসবাসের অযোগ্য হলে সেই ক্ষতি কোনও ভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে প্রযুক্তি নির্মাতা উন্নত দেশগুলোকেই।

 ছবি গুগল থেকে নেওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here