নিজস্ব প্রতিবেদন

মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস ও সিপিএমের ভরাডুবি হল। জোড়াফুল ও পদ্মফুলের দাপটে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল বাম-কংগ্রেস জোট সংযুক্ত মোর্চা। অধীর-গড় বলে পরিচিত মুর্শিদাবাদের ২০টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে তৃণমূল এবং ২টি আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে। বাম-কংগ্রেসের ঝুলিতে একটি আসনও জোটেনি। বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদ আসনে পদ্মফুল এবং জেলার বাকি আসনগুলিতেও মাথা দোলাচ্ছে ঘাসফুল।
বরাবরই মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের গড় বলে পরিচিত। এ ছাড়া বামেরাও মুর্শিদাবাদে বেশ ভাল জায়গায় ছিল। এমনকি ২০১৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল চারটি আসনে এবং বাম-কংগ্রেস জোট ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল। পরে একে একে বাম কংগ্রেসের বিধায়ক, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জন প্রতিনিধিরা দল ছেড়ে তৃণমূল যোগ দেন। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদ, সব পঞ্চায়েত সমিতি, বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নেয় তৃণমূল। যদিও সে বার তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোর করে পঞ্চায়েত দখলের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের নির্বাচনে দেখা যায় জেলার তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে দু’টিতে ঘাসফুল ফোটে। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে জেলার ২২টি আসনের মধ্যে ১৬টিতে তৃণমূল, ৫টিতে কংগ্রেস ও একটিতে বিজেপি এগিয়েছিল। কিন্তু এ বারের যে ২০টি আসনে ভোট হয়েছে তার মধ্যে ১৮টিই তৃণমূলের ঝুলিতে গেল।
খাস বহরমপুরও কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র (কাঞ্চন) বহরমপুরে জয়ী হয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। আর কংগ্রেসের মনোজ চক্রবর্তী নেমে গিয়েছেন তৃতীয় স্থানে। স্বাধীনতার পর থেকে মুর্শিদাবাদের লালগোলা আসন কংগ্রেসের দখলে ছিল। প্রথমে আব্দুস সাত্তার জয়ী হয়ে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরে সাত্তার সাহেবের ছেলে আবু হেনা জয়ী হয়ে আসছিলেন। এ বারে তাঁর বিজয় রথ থামিয়ে দিলেন তৃণমূলের মহম্মদ আলি। ডোমকল ও নবগ্রাম মুর্শিদাবাদের ভিয়েতনাম নামে পরিচিত ছিল। ২০১১ সাল দূরে থাক, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সিপিএম এই দুটি আসনে জয়ী হয়েছিল। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নবগ্রাম ও ডোমকল দখল করল তৃণমূল।
জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান এই জয়কে মুর্শিদাবাদবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। তাহের বলেন, ‘‘যাঁরা ভোট দিয়ে আমাদের দলের প্রার্থীদের জয়ী করেছেন তাঁদের ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাই। এ জয় আপনাদের জয়, বাংলার সংস্কৃতির জয়।’’ কংগ্রেস নেতা বহরমপুরের প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ভোটে জয়-পরাজয় আছে। কেন এমন ফল হল তা আমরা পর্যালোচনা করব।’’ সিপিএম নেতৃত্ব জানিয়েছেন, ‘‘কেন এমন ফল হল তার  চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে।’’ বিজেপির জেলার নেতা শাখারভ সরকার বলেন, ‘‘জনগণের রায়কে মাথা পেতে নিচ্ছি। তবে দলের কেন এমন ফল হল তা খতিয়ে দেখা হবে।’’