কল্লোল প্রামাণিক

তেহট্ট মহকুমার তিনটি বিধানসভা আসনেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখলেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। এ বারের নির্বাচনে করিমপুর কেন্দ্রের তৃণমূলপ্রার্থী বিমলেন্দু সিংহরায়, পলাশিপাড়ার তৃণমূলপ্রার্থী মানিক ভট্টাচার্য ও তেহট্টের তৃণমূলপ্রার্থী তাপস সাহা তিন জনেই জয়ী হযেছেন। রবিবার মহকুমার তিনটি আসনের ভোট গণনা হয় বেতাই বিআর অম্বেডকর পলিটেকনিক কলেজে। এ দিন সকাল থেকে প্রার্থী ও এজেন্টরা গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। তবে কোভিড-বিধি মানতে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞায় গণনাকেন্দ্রের সামনে কোনও দলের সমর্থকদের ভিড় ছিল না। গণনার শুরু থেকেই এগিয়েছিল তৃণমূল। দুপুর গড়াতে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বাড়তেই বিজেপির কর্মীরা বাড়ির পথ ধরেন। গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিজেপির তিন প্রার্থী গণনাকেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। তারপরে ভোটের ফল প্রকাশের পরেই মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল সমর্থকরা আনন্দে মেতে ওঠেন।
১৯৭৭ সাল থেকে দীর্ঘদিন ওই তিনটি আসনে সিপিএমের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল করে তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও এই তিন আসনে দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল। তবে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই তিন আসনেই তৃণমূলপ্রার্থীরা জয়লাভ করেন। সে বছর তেহট্টে গৌরীশঙ্কর দত্ত ১৭৩৯৪ ভোটে, করিমপুরে মহুয়া মৈত্র ১৫৯৮৯ ভোটে সিপিএমকে হারিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। পাশাপাশি কঠিন লড়াই করে পলাশিপাড়ায় ৫৫৫৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তাপস সাহা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে করিমপুরের বিধায়ক মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরে করিমপুরে উপ-নির্বাচন হয়। সে বার তৃণমূলপ্রার্থী বিমলেন্দু সিংহরায় ২৫১৪২ ভোটে বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারকে হারিয়ে জয়ী হন।
এ বারের ভোটে বিমলেন্দু সিংহরায়কে দ্বিতীয় বারের জন্য প্রার্থী করে তৃণমূল। বিধায়ক তাপস সাহাকে পলাশিপাড়া থেকে সরিয়ে তেহট্টে প্রার্থী করা হয়। মানিক ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা হয় পলাশিপাড়ায়। ২০১১ সালে এই পলাশিপাড়া কেন্দ্রেই মানিকবাবু সিপিএমের এসএম সাদির কাছে হেরে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তেহট্টের গত বারের বিধায়ক গৌরীশঙ্কর দত্তকে এ বার প্রার্থী করেনি তৃণমূল। ভোটের আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই কেন্দ্রে এ বারে জিতে বিধায়ক হলেন তাপস সাহা। করিমপুর কেন্দ্রের দু’বারের সিপিএম প্রার্থী ও প্রাক্তন বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ বছর দুয়েক আগে দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেন এবং এ বার তিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন।
তৃণমূল সমর্থকদের দাবি, গত দশ বছরে তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের জন্য বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করেছেন। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, বার্ধক্য ভাতা-সহ সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা মানুষ পেয়েছেন। যে কারনে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে হারিয়ে বাংলার মানুষ তৃতীয় বারের জন্য তৃণমূলকেই ক্ষমতায় এনেছে। তৃণমূলের দাবি, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও সিপিএম করিমপুরে কোনও উন্নয়ন করেনি। অথচ ২০১৬ সালে এখানে প্রথম তৃণমূল বিধায়ক হওয়ার পরে মহুয়া মৈত্র ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। এলাকায় নতুন বাসস্ট্যান্ড, লালন মঞ্চ, সদ্ভাব মঞ্চ, বেশ কিছু পার্ক ছাড়াও নানা উন্নয়নের কাজ করেছেন। সেই কারণেই তৃণমূলকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন।

(ফিচার ছবি গুগল থেকে নেওয়া)