গৌরব বিশ্বাস ও কল্লোল প্রামাণিক

৬,৪৬,৮২৭!
নাহ্, ছাপার ভুল নয়। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নোটা-র (নান অব দ্য অ্যাবাভ) প্রাপ্ত ভোট এটাই। অর্থাৎ, সারা রাজ্যে ৬,৪৬,৮২৭ জন মানুষ মনে করেছেন, ব্যালট বা ইভিএমে উপরের কোনও প্রার্থীই তাঁদের পছন্দ নয়। এই ফলে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত ‘নোটাবাদীরা’। তাঁদের অনেকেই বলছেন, ‘‘নোটায় ভোট দিয়ে কী লাভ তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে রাজনীতির কারবারিদের এ বার সতর্ক ও সচেতন হওয়ার সময় চলে এসেছে।’’

এ বারের নির্বাচনে সবচেয়ে ‘হেভিওয়েট সিট’ ছিল নন্দীগ্রাম। সেখানে নোটায় ভোট পড়েছে ১০৯০। এখানেও প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে চতুর্থ স্থানে রয়েছে নোটা। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘মাথায় রাখতে হবে, নন্দীগ্রামের জয়ের ব্যবধানটাও!’’ তমলুকে বিজেপি প্রার্থীর থেকে ৭৯৩ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। এ দিকে, ওই কেন্দ্রে নোটায় ভোট পড়েছে ১১৩৬। আবার যে শীতলকুচি নিয়ে উত্তাল হয়েছিল তামাম রাজ্য সেখানেও নোটায় ভোট পড়েছে ২৭৪৩।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য জানান দিচ্ছে, সারা রাজ্যে এ বারের ভোটে ফরোয়ার্ড ব্লক ০.৫৩ শতাংশ, বিএসপি ০.৩৯ শতাংশ, সিপিআই ০.২ শতাংশ, সিপিআইএমএল ০.০৩ শতাংশ ও মিম পেয়েছে ০.০২ শতাংশ ভোট। সেখানে নোটা পেয়েছে ১.০৮ শতাংশ ভোট। এ দিকে কংগ্রেস ও সিপিএমের প্রাপ্ত ভোট যথাক্রমে ২.৯৩ ও ৪.৭৩ শতাংশ।
এ বারের নির্বাচনে সবচেয়ে ‘হেভিওয়েট সিট’ ছিল নন্দীগ্রাম। সেখানে নোটায় ভোট পড়েছে ১০৯০। এখানেও প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে চতুর্থ স্থানে রয়েছে নোটা। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘মাথায় রাখতে হবে, নন্দীগ্রামের জয়ের ব্যবধানটাও!’’ তমলুকে বিজেপি প্রার্থীর থেকে ৭৯৩ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। এ দিকে, ওই কেন্দ্রে নোটায় ভোট পড়েছে ১১৩৬। আবার যে শীতলকুচি নিয়ে উত্তাল হয়েছিল তামাম রাজ্য সেখানেও নোটায় ভোট পড়েছে ২৭৪৩। যাদবপুর, রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, দমদম, শিলিগুড়িতে নোটায় ভোট পড়েছে যথাক্রমে ২৭৩০, ১৬৬২, ২৩১০, ২০৩৯ এবং ২০৭৪।
কথাটা অবশ্য নেহাত কথার কথা নয়। নদিয়া-মুর্শিদাবাদের মতো জেলাতেও প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে নোটা বেশ কিছু বিধানসভায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় এসইউসি, বিএসপি, নির্দল বা অন্য প্রার্থীরাও নোটার চেয়ে অনেক কম ভোট পেয়েছেন। নদিয়া জেলার ১৭টি বিধাসভায় নোটায় ভোট পড়েছে ৩২,৪৬৭। মুর্শিদাবাদের ২০টি আসনে নোটায় ভোট পড়েছে ৪৪,২১৮। মুর্শিদাবাদে নোটায় সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ভগবানগোলা (৩৩৯৬) ও কান্দি বিধানসভায় (৩১৩১)। নোটায় ভোট পড়েছে ভরতপুর (২৪৪৪), সুতি (২৭২৪), ডোমকল (২৪১৯), রেজিনগর (২৯৩৮), জলঙ্গি (২৫৫১)। নদিয়ায় নোটায় ভোট পড়েছে নবদ্বীপ (২৩৪৪), শান্তিপুর (২৩৮৫), কল্যাণী (২৫৭৭), রানাঘাট উত্তর পূর্ব (২৩৫৯), চাপড়া (২০২৩)।বহরমপুরের এক ‘নোটা-সমর্থক’ বলছেন, ‘‘ভোটে অন্য প্রার্থীরা যে ভাবে প্রচার করেন, সে ভাবে নোটার কোনও প্রচার নেই। তারপরেও তো মানুষ নোটায় ভোট দিচ্ছেন। কেন দিচ্ছেন, তা নিয়ে অবশ্যই ভাবা দরকার।’’ কেউ কেউ আবার বলছেন, ‘‘এমন ভাবার কোনও কারণ নেই যে, শুধু শহুরে শিক্ষিত ভোটাররাই নোটায় ভোট দিচ্ছেন। গাঁ-গঞ্জেও নোটায় ভোট ক্রমশ বাড়ছে।’’
বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে, নোটায় ভোট আগের বারের চেয়ে বেড়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণগঞ্জে নোটায় ভোট পড়েছিল ১৭৯৫। এ বারে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯৯। রানাঘাট উত্তরপূর্ব কেন্দ্রে ২০১৬ সালে নোটায় ভোট পড়েছিল ১৬৪২। এ বার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫৯। শুধু ইভিএমেই নয়, পোস্টাল ব্যালটেও ভাল ভোট পড়েছে নোটায়। পোস্টাল ব্যালটে প্রাপ্ত ভোটের ক্ষেত্রেও বহু কেন্দ্রে চতুর্থ স্থানে রয়েছে নোটা।
বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ভোটকর্মী বলছেন, ‘‘নোটা বোতামটা থাকে ইভিএমের একেবারে শেষে। ফলে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই যে, ভুল করে এই ভোট পড়েছে। কারণ প্রচারের সময়েই বলে দেওয়া হয়, কোন প্রার্থীর নাম কত নম্বরে আছে। কিন্তু নোটার তো সেই প্রচারও নেই। ফলে নোটায় যাঁরা ভোট দেন তাঁরা খুব ভেবেচিন্তেই দেন।’’