রাজা বাগচী ● বহরমপুর

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে এ বার আরও কড়া হল রাজ্য সরকার। লোকাল ট্রেনের পরে এ বার বন্ধ করে দেওয়া হল বাস ও ফেরি-পরিষেবাও। নবান্ন থেকে এক নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রবিবার থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বাস ও ফেরি পরিষেবা। যার জেরে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাস মালিক থেকে সাধারণ যাত্রী প্রত্যেকেরই।
বহরমপুর মোহনা বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন কয়েকশো বাস জেলা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে। কয়েক হাজার যাত্রী প্রতিদিনই বাসে করে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছন। একদিকে ট্রেন বন্ধ, অন্যদিকে রবিবার থেকে বাস পরিষেবা বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে হয়রান হওয়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ যাত্রীরা।
যেমন মালদহের বাসিন্দা অরিন্দম সিংহ রায়। অফিসের কাজে বহরমপুরে এসেছিলেন। বাড়ি ফেরার কথা ছিল আগামী মঙ্গলবার। কিন্তু রবিবার থেকে বাস বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে শনিবারেই মালদহের উদ্দেশে রওনা দেন অরিন্দমবাবু। তিনি বলেন, “কাজ তো শেষ হল না। কিন্তু আজকে বাড়ি না ফিরতে পারলে সমস্যায় পড়ব। বাস, ট্রেন সমস্ত কিছুই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দূর-দূরান্তে কাজে যাওয়া মানুষের হয়রানি বাড়ল।”
অন্যদিকে অবশ্য রাজ্য সরকারের এই বাস বন্ধের নির্দেশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীদের একাংশ। এক বাস যাত্রী সাদ্দাম শেখ বলেন, “যে ভাবে রাজ্যে করোনা ছড়াচ্ছে, তাতে বাস ও ট্রেন কিছুদিন বন্ধ রাখা ভীষণ প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের কিছুটা সমস্যা হবে ঠিকই, কিন্তু আগে প্রাণে বাঁচতে হবে।”
এ‌ দিকে রবিবার রাত থেকেই দূরপাল্লার বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা ফেডারেশন অফ বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আধিকারিকেরা। ওই অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নবকুমার সাহা বলেন, “আজ রাত থেকেই কলকাতা ও শিলিগুড়ি রুটের সমস্ত বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তা না হলে ফিরে আসা সম্ভব হবে না। বাস বন্ধ থাকলে বাসকর্মীদের কিছুটা সমস্যা তো হবেই। সেটাকে মেনে নিয়েই আমরা কাজ করছি।”
অন্যদিকে ট্রেন ও বাস পরিষেবা বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন টোটো চালকেরাও। রুজিতে তালা পড়ার আশঙ্কায় ঘুম ছুটেছে তাঁদেরও। বহরমপুরের টোটোচালক রাজু মিস্ত্রি বলেন, “প্রতিদিন স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড থেকেই আয় হয়। কিন্তু ট্রেন ও বাস দুটোই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী পাব কোথায়? আমাদের সংসারটা এ বার ভেসে যাবে। সরকারকে আমাদের কথা একটু ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।”

ছবি— অন্বেষা আবেদিন