কল্লোল প্রামাণিক ● করিমপুর

বিপদে হোক বা অসময়ে মানুষ খোঁজে ভরসার হাত। কিন্তু যাঁরা বোঝেনই না বিপদ কী সেই মানসিক ভারসাম্যহীন কিংবা বিপদ বুঝতে পেরেও যাঁদের কিছু করার নেই সেই ভবঘুরেরা এই অসময়ে কাকে খুঁজবেন?
নাহ্, তাঁদের কাউকে খুঁজতে হচ্ছে না, তাঁদেরকেই খুঁজে নিচ্ছেন তিনি। এই লকডাউনে মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরেদের খাওয়ানোর দায়িত্ব তিনি এ বারেও তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে। তিনি করিমপুরের অর্পণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তামাম এলাকা যাঁকে ‘অপা’ নামেই চেনে। আর তাঁর সংস্থার নাম ‘ভরসা থাকুক’। যে সংস্থার ক্যাচলাইন— ‘সুসময়ে ভালো থাকুন, অসময়ে আমরা আছি।’
সেই ক্যাচলাইন যে কত সত্যি তা বহু বার প্রমাণ করেছেন অর্পণ ও তাঁর সংস্থার সদস্যরা। গতবার লকডাউনের প্রথমেই নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে অর্পণ ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন— ‘কোনও বাড়িতে যদি বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থাকেন এবং তাঁদের যদি ওষুধ এনে দেওয়া ও বাজার করার কেউ না থাকে তা হলে আমাকে ফোন করতে পারেন।’ বাজার করে দেওয়া, ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অর্পণ দরিদ্র, ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীনদের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন।
এ বারেও কার্যত লকডাউনের শুরু থেকেই তিনি খাবার নিয়ে ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত। অর্পণ বলছেন, ‘‘এখন হোটেল বন্ধ। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে রাস্তাতেও তেমন ভাবে কেউ বেরোতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে যাঁদের ঠিকানা ফুটপাত তাঁদের কাছে এ বারেও খাবার পৌঁছে দিচ্ছি।’ তাঁর সংযোজন, ‘‘করিমপুর এলাকার বহু মানুষ এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করছেন। এলাকার দিদি, বোনেরা খাবার রান্না করে দিচ্ছেন। আমি সেই রান্না করা খাবার দিয়ে আসছি। অনেককে খাইয়েও দিতে হচ্ছে।’’
করিমপুরের নতিডাঙা মোড় থেকে হোগলবেড়িয়ার আরবপুর পর্যন্ত ইতিমধ্যে প্রায় বারো-তেরো জন মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরেকে খুঁজে বের করেছেন অর্পণ। তাঁদের নিয়মিত খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এমন উদ্যোগ অর্পণের নতুন নয়। অনাথ আশ্রমের আবাসিকদের নিয়ে পিকনিক, শীতকালে ভবঘুরে, মানসিক ভারসাম্যহীন ও দরিদ্রদের জন্য শীতবস্ত্র জোগাড় করে বিলি, প্রতিবন্ধীদের ট্রাই সাইকেল, অভাবি পড়ুয়াদের বই কিনে দেওয়ার মতো বহু কাজ করেন তিনি। অর্পণ বলছেন, ‘‘ভরসা থাকুক-কে মানুষ ভরসা করেন। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’’