অভিজিৎ মণ্ডল ● সমশেরগঞ্জ

মা অসুস্থ হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী। এমআরআই পরীক্ষা করানো হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট পড়ে রয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এ দিকে সেই রিপোর্টের জন্য থমকে রয়েছে চিকিৎসা। তা হলে উপায়?
অন্য সময় হলে বাসেই চলে যাওয়া যেত মালদহে। কিন্তু লকডাউনের কারণে এখন তো বাসও চলছে না। এ সব ভাবতে ভাবতে সমশেরগঞ্জের উত্তর চাচণ্ড গ্রামের মিজানুর রহমান ঠিক করেন, তিনি সাইকেলেই মালদহ যাবেন।
সেই মতো বুধবার ভোরে তিনি সাইকেলে বেরিয়ে পড়েন মা‌লদহের উদ্দেশে। সকাল ১০টা নাগাদ সেখানে পৌঁছে রিপোর্ট সংগ্রহ করে সেই দিনই আবার বাড়ি ফিরে আসেন। পেশায় ঘুগনি বিক্রেতা মিজানুর বলেন, ‘‘প্রায় ১৪০ কিলোমিটার সাইকেল চালাতে হয়েছে। ক্লান্ত হয়ে গেলে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার প্যাডেলে চাপ দিয়েছি। তবে মায়ের রিপোর্টটা সংগ্রহ করতে পেরেছি, এটাই বড় প্রাপ্তি।’’
মিজানুরের মা বেশ কিছুদিন থেকেই অসুস্থ। ইদের দিন কয়েক আগে চিকিৎসকের পরামর্শে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাঁর এমআরআই পরীক্ষা করানো হয়। ইদের পরে রিপোর্ট আনতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইদের পরে কার্যত লকডাউন শুরু হয়ে যায়। ফলে কী ভাবে রিপোর্ট আনতে যাবেন তা নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন মিজানুর। শেষতক তাঁর সাইকেলই মুশকিল আসান করে দেয়। মিজানুরের এমন কাজে খুশি উত্তর চাচণ্ডের বাসিন্দারা। তাঁদের একজন আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘মিজানুর আমাদের গ্রামের গর্ব।’’