রাজা বাগচী ● বহরমপুর

সদ্য করোনায় তিনি মাকে হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মায়ের দেহ নিয়ে কলকাতা থেকে জিয়াগঞ্জে ফিরেছেন। খুব কাছ থেকে তিনি দেখেছেন, একটু অক্সিজেনের জন্য কী ভাবে কষ্ট পান করোনায় আক্রান্তেরা। সেই কষ্ট লাঘব করতে শনিবার তিনি পাঁচটি হাই ফ্লো নাসাল অক্সিজেন (এইচএফএনও) মেশিন তুলে দিলেন মুর্শিদাবাদের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের হাতে। তিনি মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র, বিখ্যাত গায়ক অরিজিৎ সিংহ।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অতিমারিতে বহু জায়গায় অক্সিজেনের ঘাটতি রয়েছে। সেই কারণে মুম্বইয়ের একটি সংস্থায় দশটা এইচএফএনও মেশিনের বরাত দেন অরিজিৎ। ইতিমধ্যেই পাঁচটি মেশিন চলে এসেছে। এ দিন সেই পাঁচটি মেশিন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে ‘ধৃতি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে তুলে দেন গায়ক। আরও পাঁচটি মেশিন খুব শিগ্গির জেলায় এসে পৌঁছবে বলে জানা গিয়েছে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘‘আমাদের জেলায় এই মেশিন নেই বললেই চলে। ফলে অনেক রোগীর হাই ফ্লো অক্সিজেন প্রয়োজন হলেও আমরা তা দিতে পারি না। অরিজিৎ সিংয়ের এই উদ্যোগে জেলাবাসী উপকৃত হবেন।’’ বহরমপুর কোভিড হাসপাতালে থাকবে চারটি মেশিন ও একটি মেশিন পৌঁছে দেওয়া হবে জিয়াগঞ্জ লন্ডন মিশন হাসপাতালে। প্রসঙ্গত অরিজিৎ সিংয়ের মা অদিতি সিং (৫২) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে জিয়াগঞ্জের এই লন্ডন মিশন হাসপাতালেই ভর্তি করানো হয়েছিল।
কোভিড ওয়ারিয়র্স ক্লাবের সম্পাদক তথা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অমরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘‘অরিজিতের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই অতিমারির সময় অক্সিজেনের ঘাটতি রয়েছে। এই অবস্থায় মুম্বই থেকে নিজের উদ্যোগে অরিজিৎ এই মেশিনগুলো নিয়ে এসেছেন। বহু রোগীর চিকিৎসায় এই মেশিনগুলো কাজে আসবে।’’
ধৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা সুমন দাস বলেন, ‘‘আমরা গত বছর করোনার সময় থেকেই নানা ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। এই সময় অক্সিজেনের অভাব রয়েছে। তাই অরিজিৎ সিংয়ের উদ্যোগে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মেশিনগুলো স্বাস্থ্য দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হল। ভবিষ্যতে যে কোনও প্রয়োজনে আমরা মানুষের পাশে থাকব।’’

(অরিজিৎ সিংয়ের ছবি গুগল থেকে নেওয়া)