দেবপ্রসাদ সান্যাল করিমপুর

করোনা টিকাকরণের জন্য দীর্ঘ লাইন ও থিকথিকে ভিড়ে শিকেয় উঠল করোনা-বিধি। বৃহস্পতিবার এমনটাই অভিযোগ উঠল করিমপুরে। দিনকয়েক আগে থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের (১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সের লোকজনের) টিকাকরণ শুরু হয়েছে। করিমপুরের আইটিআই কলেজে প্রথম ডোজের টিকা নেওয়ার জন্য বহু মানুষ ভিড় করছেন। একদিকে টিকা দেওয়া হচ্ছে, সেই সঙ্গে টিকাকরণের জন্য নাম নথিভুক্তির কাজও চলছে। বৃহস্পতিবার হোগলবেড়িয়া, শিকারপুর, যমশেরপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় টিকা দেওয়া হলেও বহু মানুষ এ দিন বৃষ্টির মধ্যে আইটিআই কলেজেই ভিড় করেছিলেন। অভিযোগ, অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না।
করিমপুরের বিশাল নাথ জানান, তাঁর নাম আগেই নথিভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এর আগে দু’দিন লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পরে ফিরে যেতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রচুর ভিড় হয়েছিল। ছ’শো জনের টিকা দেওয়ার পরে তাঁর আর হয়নি। তাই এ দিন তিনি ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। হোগলবেড়িয়ার নির্মল মজুমদার বলেন, “এ দিন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে মেয়ের নাম নথিভুক্ত করিয়েছি। কিন্তু ভ্যাকসিন পেতে আবার কত দিন লাইনে দাঁড়াতে হবে জানি না।” গোপালপুর ঘাটের অঙ্গনওয়াড়িকর্মী মনজিলা বিবির কথায়, “ভ্যাকসিন পাব ভেবে এই কাদা জলের মধ্যে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। এত ভিড়ে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাব বলে ভয় লাগছে।”
করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতাল সুত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে পঁয়তাল্লিশ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় পঁচিশ হাজার টিকা দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে থেকে আবার দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকা দেওয়া হচ্ছে। করিমপুর আইটিআইএর পাশাপাশি এ দিন আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় টিকা দেওয়া হয়েছে। করোনা-বিধি মেনেই লাইনে দাঁড়ানোর জন্য সবাইকে বলা হচ্ছে। প্রতিদিন ভ্যাকসিন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নাম নথিভুক্ত করার কাজও চলছে। ভিড় এড়াতেই বৃহস্পতিবার ব্লকের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে লাইনে দাঁড়ানো কেউ কেউ এ দিন বলেছেন, ‘‘ব্লকের অন্য জায়গায় যে টিকা দেওয়া হবে সে কথা আমরাও জানতাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে যদি ঘুরে আসতে হয়? তাই ঝুঁকি না নিয়ে সটান করিমপুরে চলে এসেছি।’’ যা শুনে করিমপুর হাসপাতালের এক চিকিৎসক হতাশ হয়ে বলছেন, ‘‘এরপরে আর কী বলার থাকে, বলুন! কিছু মানুষ এখনও বিপদটা বুঝতে পারছেন না।’’