নিজস্ব সংবাদদাতা বহরমপুর

মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লিতে বদলির বিষয়ে প্ৰধানমন্ত্রীর সমালোচনা করলেন কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে প্ৰধানমন্ত্রী আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাকরি মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনে সম্মতি দিয়েছিলেন। গতকালের ঘটনা দিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল। ক’দিন আগে যাঁর চাকরির সম্মতি দেওয়া হল, এখন তাঁকে দিল্লিতে ডাকা হচ্ছে। আলাপন বরাবরই দক্ষ অফিসার। ওর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গতকাল হঠাৎ করে তাঁদের (প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর) মধ্যে সংঘাত বেড়ে গেল।’’
অধীরের দাবি, ‘আমার মনে হয় তাঁদের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ার ট্রিগার হল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুবাবুর (অধিকারীর) প্ৰধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিতি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সকলের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন তাতে আমার অপত্তি নেই। কিন্তু বিচারটা যেন সমান হয়। গুজরাতের সাইক্লোনের পরে প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁর আলোচনায় কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতাকে প্রধানমন্ত্রী ডাকেননি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে, কাউকে খাতির করব, কাউকে খাতির করব না এই মানসিকতা নিয়ে।’’
অধীর আরও দাবি করেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পরে কংগ্রেস বার বার সর্বদল বৈঠক ডাকার কথা বলেছে প্ৰধানমন্ত্রীকে। কিন্তু এখনও সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়নি। এ রাজ্যেও করোনা বিপর্যয় হল, এত বড় সাইক্লোন হল। সেখানেও বিরোধীদের ডেকে আলোচনা করা হয় না। বিরোধীদের অবজ্ঞার মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রকে অবজ্ঞা করা হয়।
অধীর স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি নন। তাঁরা প্রশাসনের মুখ। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তি-সংঘাত হওয়া কখনই উচিত নয়। রাজ্যের বিষয় দেখে আমার মনে হয়েছে যেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্ৰধানমন্ত্রীর ব্যক্তিত্বের সংঘাত তৈরি হচ্ছে। এটা যুক্ত রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর জন্য সুখকর নয় বলে মনে করি। বিরোধী বা সরকারি দল থাকবে। সব দলই কখনও বিরোধী ছিল, কখনও বা সরকারে ছিল।’’
বিরোধীদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অধীর বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে দরকার করোনা মোকাবিলা ও যশ পরবর্তী সমস্যা মোকাবিলা করা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ ভাবে সেই কাজ করা দরকার। এটা যশের দিন আমরা দেখেছি। আগামী দিনেও এমন প্রত্যাশা করছি।’’