কল্লোল প্রামাণিক

করোনার জেরে রাজ্যে জারি হয়েছে বিধি-নিষেধ। এই অবস্থায় কাজ হারানো অসহায় মানুষকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন থানারপাড়া থানার পুলিশকর্মী ও গ্রিনভিউ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। গত বেশ কয়েকদিন থেকে থানারপাড়া থানার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তাঁরা। খবর পেলেই চাল, ডাল, নুন, তেল, সোয়াবিন, ডিম, মাংস কখনও আবার রান্না করা খাবার নিয়ে তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন লোকজনের কাছে।
থানারপাড়ার ওসি অভ্র বিশ্বাসের উদ্যোগেই পুলিশকর্মীরা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে প্রতিদিন খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। অভ্র বিশ্বাস বলছেন, ‘‘করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বিধি-নিষেধ চলছে। বহু মানুষ যেমন কাজ হারিয়েছেন, তেমনই বহু মহিলা যাঁরা কেউ হোটেল বা অন্য কোন বাড়িতে কাজ করতেন, তাঁদেরও এখন কোনও কাজ নেই। তাঁদের জন্যই মূলত এই উদ্যোগ। থানা থেকে একটি হেল্পলাইন নম্বর (৯৮৭৪১২৬৪৪৬) খোলা হয়েছে। সেই নম্বরে ফোন এলেই ছুটছেন পুলিশকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা।
অভ্রবাবু জানাচ্ছেন, প্রতিদিন গড়ে একশোর বেশি মানুষকে সাহায্য করা হচ্ছে। যতদিন এই বিধি-নিষেধ চলবে ততদিনই তাঁদের সাহায্য করা হবে। একই ভাবে এলাকার গরিব বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য রান্না খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন গ্রিন ভিউ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মোমিনুর রহমান, মঞ্জুর আহম্মেদ, সাকলাইন আনোয়ার, সমীরুল খামারু, নওয়াজ শরিফ মোল্লা, সুবীর খান, ক্যাপ্টেন খান, সুমন মণ্ডল, মারিকুল ইসলাম, নসিবুল আলম, আসাদুল ইসলাম-সহ আরও অনেকে।
ওই সংস্থার সদস্য মঞ্জুর আহম্মেদ বলছেন, ‘‘রাজ্যে বিধি-নিষেধ শুরু হওয়ার পরেই আমরা এই পরিকল্পনা করি। সবাই কিছু কিছু টাকা দিয়ে একটি তহবিল তৈরি করি। থানারপাড়া থানার পুলিশও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় একটি স্কুলে রান্না করে সেই খাবার প্যাকেটে করে পৌঁছে দেওয়া হয়। আমাদের এই উদ্যোগের কথা জানতে পেরে এলাকার অনেক বিশিষ্ট মানুষ ও মসজিদ কমিটির লোকজন আমাদের আর্থিক সাহায্য করছেন।’’
এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ও সংস্থার সদস্যদের এমন উদ্যোগে প্রশংসা করছেন সকলেই। নদিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) কৃশানু রায় বলেন, ‘‘থানারপাড়া থানার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। এই সময়ে অন্য থানার পুলিশকর্মীদেরও এমন কাজে এগিয়ে আসা উচিত।’’