অভিজিৎ রায়

দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অগস্টের শেষ সপ্তাহেই লকডাউনকে লক করে অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল। তার পরে এ রাজ্য়ে ১২ তারিখের লকডাউনও তুলে নেওয়া হল। অনেক কিছু ঘেঁটেও এমন অপরিকল্পিত সাপ্তাহিক লকডাউনের কার্যকারণ বুঝে উঠতে পারেননি অনেকেই। লকডাউনের দিন পরিবর্তিত হলে বা লকডাউন বাতিল হলে করোনা ঠিক কী ভাবে আমাদের নিষ্কৃতি দেবে সে প্রশ্নেরও সদুত্তর নেই।

অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত বেশিরভাগ মানুষ এখন এ সব নিয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। মাস্ক ব্যবহার না করায় তাঁদের অনেকেই জরিমানা গুনছেন। লকডাউন অমান্য করায় ধৃতদের ছবি ভাসছে ঢাউস এলইডি স্ক্রিনে। অথচ লকডাউন বাদে অন্য দিনগুলোয় পাড়া বা শহরের চায়ের দোকানে মাস্কবিহীন লোকজনের ভিড় দেখলে আতঙ্কিত হতে হয়। বাজারে, দোকানে মানুষের ঢল নামছে লকডাউনের আগের এবং পরের দিন। সেখানে সরকার নির্ধারিত দূরত্ববিধি মানার কোনও লক্ষণই নেই।

আবার, আর এক শ্রেণির মানুষ অতি-সচেতন। সেই অর্থে তাঁদের আর্থিক চিন্তা নেই। মাসের নির্দিষ্ট তারিখে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে। কোনও কারণেই বাইরে বেরিয়ে তাঁরা করোনার রিস্ক নেন না। অথচ যাঁরা নিরুপায় হয়ে রুটিরুজির খোঁজে পথে নামছেন, তাঁদেরকেই করোনার কারণ বলে চিহ্নিত করে বিড়বিড় করছেন, “এদের জন্যই করোনার এত বাড়বাড়ন্ত। “

অনেকেরই আবার এখন নতুন করে শখ হয়েছে ছাদের বাগান। সেখানে শ্রীমুখের নিজস্বী তুলে ফেসবুকে পোস্টাচ্ছেন— ফিলিং রিলাক্সড। সমাজমাধ্যম থেকে রকমারি মাস্ক এবং মেডিসিনের ব্যাপারে যাবতীয় জ্ঞান অর্জন করে সুশান্ত-রিয়া-কঙ্গনা চচ্চড়িতে মন দেওয়া বাঙালি মোটেও আগ্রহী নয় সেপ্টেম্বরে লোকসভায় কী কী বিল এবং অর্ডিন্যান্স পাশের আয়োজন হল তা নিয়ে। দেশের অর্থনীতির কফিনের শেষ পেরেক (FRDI BILL) ঠোকার আগেই যে মানুষের কত ক্ষতি হতে চলেছে সে ব্যাপারে ঠিক ক‘জনের হেলদোল রয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। আলু, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতেও আমজনতা এবং রাজনৈতিক দলগুলি যে ভাবে মুখে কুলুপ এঁটেছে তাতে ভয় হয়, এ সবও করোনার আফটার এফেক্ট নয় তো!

ভারত সরকার এখন দেশবাসীকে ঋণগ্রহণের সুফল বোঝাতে ব্যস্ত। আর এই লকডাউনে আমাদের মহান শিল্পপতিদের ঋণমুকুব হয়েছে ১৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এখন আপনার, আমার ঋণ সরকার বাহাদুর মুকুব করবেন কি না সেই প্রশ্নের জবাব চাওয়ার সময় আর বেশি দূরে নেই। এখন লকডাউন শেষ। রাস্তায় বেরিয়ে, ভাইরাস ছড়িয়ে, কাজ করে ও কাজ করিয়ে সমাজের ইমিউনিটি বাড়িয়ে সামনের ভোটে লাইনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিন। তবেই তো ভারতের সীমান্ত থেকে চিন সেনা সরিয়ে নেবে আর টাকার দামও বাড়বে। তারপরে ওয়ার্ল্ড মার্কেটে দাম না পাওয়া পেট্রোল, ডিজেল ভারতের মাটিতে সেঞ্চুরি করে বিশ্বকাপ ছিনিয়ে আনবে!

সত্য সেলুকাস…

ছবিটি গুগল থেকে নেওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here